ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার মরদেহ ঘরে, জমি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ; পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন একই পরিবারের ৪ হত্যা: পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্ত গেল ডিবিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বড় ধাক্কা, ২ লাখের ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র রাজপথের লড়াই থেকে নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল ইসলাম আরিফ অসহায় মানুষের জন্য ‘শ্যামল বাংলা ফ্রি মেডিকেল সেন্টার’ চালু ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন ১৪ মার্চ শুরু ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা, শেষ ১৫ এপ্রিল ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি পুনর্বহালের উদ্যোগ মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়ম, মানতে হবে ৮ ধাপ বিদ্যালয় আছে, শিক্ষক নেই—টাঙ্গাইলে শূন্য ১,৪৫৯ পদ

আশ্রয়প্রার্থীদের বড় ধাক্কা, ২ লাখের ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—এমন দুই লাখ পর্যন্ত বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সরকার। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এপি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করবে।

কারা পড়ছেন নতুন সিদ্ধান্তের আওতায়?

পরিকল্পনার আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি১ (B1) ও বি২ (B2) ভিসা থাকতে পারে। এসব ভিসাধারীর মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত করে বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে ভিসা বাতিল মানেই সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার—এমন নয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের অধিকাংশকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হতে পারে। ফলে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার মর্যাদা হারালেও আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অন্য অভিবাসন অবস্থানে থেকে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

‘আশ্রয়ব্যবস্থা অভিবাসন আইন এড়ানোর পথ নয়’

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারা বিশ্বে মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয়ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা নয়।’

ট্রাম্প প্রশাসনে ভিসায় ধারাবাহিক কড়াকড়ি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া, ব্যয়বহুল ভিসা বন্ডের শর্ত এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

এদিকে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ভিসা বাতিলের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া মার্কিন সরকারের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনাকারী—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতাকারী কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ও ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে। বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আশ্রয়প্রার্থীদের বড় ধাক্কা, ২ লাখের ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা আশ্রয় প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন—এমন দুই লাখ পর্যন্ত বিদেশির ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সরকার। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশটির ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে এপি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করবে।

কারা পড়ছেন নতুন সিদ্ধান্তের আওতায়?

পরিকল্পনার আওতায় ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি১ (B1) ও বি২ (B2) ভিসা থাকতে পারে। এসব ভিসাধারীর মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় পাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বিদেশিদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত করে বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

তবে ভিসা বাতিল মানেই সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার—এমন নয়।

মার্কিন কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁদের অধিকাংশকে অন্য একটি অভিবাসন শ্রেণিতে স্থানান্তর করা হতে পারে। ফলে ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার মর্যাদা হারালেও আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা অন্য অভিবাসন অবস্থানে থেকে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন।

‘আশ্রয়ব্যবস্থা অভিবাসন আইন এড়ানোর পথ নয়’

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এবং সারা বিশ্বে মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে বিরক্ত। অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয়ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা নয়।’

ট্রাম্প প্রশাসনে ভিসায় ধারাবাহিক কড়াকড়ি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া, ব্যয়বহুল ভিসা বন্ডের শর্ত এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।

এদিকে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ভিসা বাতিলের মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া মার্কিন সরকারের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনাকারী—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতাকারী কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে নতুন এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয় ও ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলবে। বিশেষ করে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।