ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি পুনর্বহালের উদ্যোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ছাত্রীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা ও ঝরে পড়া ঠেকাতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে মেয়েদের জন্য সর্বজনীন উপবৃত্তি চালু করা হলে এর সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঝরে পড়া ঠেকানোই মূল লক্ষ্য
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
একই সঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সর্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জনও পর্যালোচনা করা হয়। ওই কর্মসূচি মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার সঙ্গে পুষ্টিতেও নজর
শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে সরকার। এ কারণে বিদ্যালয় পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালুর ব্যবস্থাপনা, খাবারের পুষ্টিমান এবং নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস না করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা খাবার হতে হবে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত।
মিড-ডে মিল বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।
দুই জেলায় হবে পাইলট প্রকল্প
মিড-ডে মিলের দুটি পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে দুটি পৃথক জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সময়ে কোন পদ্ধতি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয়, বাস্তবায়নযোগ্যতা, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করা হবে।
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















