ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই বছর পর খুলনা-কলকাতা রুটে আবারও চালু হচ্ছে বন্ধন ট্রেন বিধবা স্ত্রী ও বিপত্নীক স্বামীকে আজীবন পারিবারিক পেনশন, বদলেছে পেনশনের হিসাব ন্যাম ভবন থেকে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বাড়াতে বিটুবি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ডেঙ্গুর দাপট অব্যাহত, একদিনে ৬ মৃত্যু ও হাসপাতালে ১,৫৯৩ ভর্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন ৩৫ জন, সফরসঙ্গীদের তালিকায় যারা টাঙ্গাইলে সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা ঝাড়ফুঁকের কথা বলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, জামায়াতের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে ছাত্রদলের মোটরসাইকেল মহড়া

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখল, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

​জয়পুরহাট প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্যের বাড়ি দখল এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির রায়কালী ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবুকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত এই নেতার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রায়কালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে মিজানুর রহমানের দাবি, তিনি কারও বাড়ি দখল করেননি; বরং নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার করেছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে মিজানুর রহমানকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়।

এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহমেদ মোশারফ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ বিভিন্ন সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২১ জুলাই রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি হস্তান্তর না করায় তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে বাড়ি নিয়ে বিরোধ

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, রায়কালী গ্রামে প্রায় চার শতক জমির ওপর ১০ থেকে ১২ বছর আগে দুইতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন বেলাল হোসেন। প্রায় চার বছর আগে ওই বাড়ি বন্ধক রেখে অগ্রণী ব্যাংকের জিয়ানগর শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেলাল হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। কিছুদিন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়িতে থাকলেও প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনিও সেখান থেকে চলে যান। এরপরই মিজানুর রহমান বাড়িটি দখলে নেন বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার কথা বলা হলেও ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান বাড়িটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।

‘বাড়ি দখল করিনি, পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছি’

অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি মূলত আমার দাদার। ১০-১৩ বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বেলাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। আমি কারও বাড়ি দখল করিনি, নিজেদের পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছি।’

দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, বহিষ্কারের কথা শুনেছেন, তবে এখনো কোনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সোমবার সকালেই তিনি ওই বাড়ি থেকে নিজের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।

‘অন্যের বাড়ি দখল গুরুতর অপরাধ’

আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘যে দলেরই লোক হোক না কেন, অন্যের বাড়ি দখল করা গুরুতর অপরাধ। আমরা তাঁকে বারবার বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা মানেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যায় ও অপকর্মের সঙ্গে দল কোনোভাবেই আপস করবে না।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি দখল, বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

অন্যের বাড়ি দখল এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির রায়কালী ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবুকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত এই নেতার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রায়কালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেনের বাড়ি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে মিজানুর রহমানের দাবি, তিনি কারও বাড়ি দখল করেননি; বরং নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার করেছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাইকিং করে মিজানুর রহমানকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হয়।

এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সামিউল হাসান ইমন ও এম ইউ আহমেদ মোশারফ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অন্যের বাড়ি দখলসহ বিভিন্ন সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গত ২১ জুলাই রায়কালী ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি হস্তান্তর না করায় তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে বাড়ি নিয়ে বিরোধ

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, রায়কালী গ্রামে প্রায় চার শতক জমির ওপর ১০ থেকে ১২ বছর আগে দুইতলা পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন বেলাল হোসেন। প্রায় চার বছর আগে ওই বাড়ি বন্ধক রেখে অগ্রণী ব্যাংকের জিয়ানগর শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা ঋণ নেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেলাল হোসেন আত্মগোপনে চলে যান। কিছুদিন তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাড়িতে থাকলেও প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনিও সেখান থেকে চলে যান। এরপরই মিজানুর রহমান বাড়িটি দখলে নেন বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে বাড়িটি ভাড়া দেওয়ার কথা বলা হলেও ভাড়া পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান বাড়িটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে সেটি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগও করেন।

‘বাড়ি দখল করিনি, পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছি’

অভিযোগ অস্বীকার করে মিজানুর রহমান বলেন, ‘জায়গাটি মূলত আমার দাদার। ১০-১৩ বছর আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বেলাল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জমি দখল করে এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। আমি কারও বাড়ি দখল করিনি, নিজেদের পৈতৃক জমি উদ্ধার করেছি।’

দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, বহিষ্কারের কথা শুনেছেন, তবে এখনো কোনো চিঠি হাতে পাননি। তবে সোমবার সকালেই তিনি ওই বাড়ি থেকে নিজের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিয়ে বাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান।

‘অন্যের বাড়ি দখল গুরুতর অপরাধ’

আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ ইফতেখার রানা বলেন, ‘যে দলেরই লোক হোক না কেন, অন্যের বাড়ি দখল করা গুরুতর অপরাধ। আমরা তাঁকে বারবার বাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি তা মানেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যায় ও অপকর্মের সঙ্গে দল কোনোভাবেই আপস করবে না।’