আপা যে পথে হেঁটেছেন, আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন: জামায়াত আমির

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
‘আপা যে পথে হেঁটেছেন, এখন আপনারাও সেই পথে হাঁটছেন। অত্যাচারীর এই পথ পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে মক্কায় যেতে পারবেন না, দিল্লি যেতে হবে’—ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
‘ফ্যাসিবাদ কোনো দলের সঙ্গে থাকে না’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। এক ফ্যাসিবাদকে তাড়ালেই হবে না। জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদ চায় না। বাংলার জমিনে কোনো ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রস্তুত থাকুন। যেভাবে ২০২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হতে পারে। জাতির কল্যাণে একবার নয়, শতবার নামব, ইনশাআল্লাহ।’
‘মজলুমরা আবার জালিম হতে চাইবে না’
বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে গত ১৫ বছর জামায়াত মজলুম ছিল দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, ‘মজলুমরা কি এখন আবার জালিম হতে চাইবে? এই সরকার গঠনের পর আমাদের পাঁচজনকে খুন করা হয়েছে। আমরা কি চাই, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক? না, চাই না। তাই এখানেই ফুলস্টপ। আর সামনে খুনের দিকে পা বাড়াবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে যুবকেরা কারও চোখ রাঙানিকে ভয় পায় না।’
‘বৃহত্তর রংপুরকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই’
বৃহত্তর রংপুরের মানুষের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বৃহত্তর রংপুরবাসীকে বঞ্চিত করার অধিকার কারও নেই। যারা বঞ্চিত করবে, তারা গণদুশমন।’
চাঁদাবাজি ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২৪-এর বিপ্লব হয়েছে সমাজ থেকে সব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য। যারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির নেশায় আসক্ত হয়ে মানুষ খুন করছে, তারা সমাজের আবর্জনা। সমাজ থেকে এসব পরিষ্কার করতে হবে।’
ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। মহান আল্লাহ যাঁদের সম্মান দিয়ে ক্ষমতায় বসান, তাঁদের আবার আছাড় মেরে টুকরো টুকরোও করে দিতে পারেন।’
‘প্রশাসন কারও দলীয় বাহিনী নয়’
নিহত সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কারও দলীয় বাহিনী নয়। প্রশাসন এ দেশের সম্পদ। তাঁরা সবার হয়ে কাজ করবেন।’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আফসোস, সরকারি দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা, দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গতকাল রংপুরে এসেছিলেন। তিনি রংপুরবাসীর কাছে মনের খায়েশ ঝেড়েছেন; বলেছেন, আপনারা পিছিয়েই থাকবেন, কারণ আপনারা জামায়াত আর জাতীয় পার্টিকে ভোট দেন।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমরা কাকে ভোট দেব, এটা কি বিএনপি ঠিক করে দেবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘তাহলে আরও একটা আইন পাশ করেন—আগামীতে বিএনপি ছাড়া আর কাউকে ভোট দেওয়া যাবে না। তখন জনগণ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে, ইনশাআল্লাহ।’
সমাবেশে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আব্দুল করিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, সাঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইব্রাহিম হোসাইন, সেক্রেটারি আব্দুল গফুরসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে জামায়াত আমির সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া শিমুলতাইর এলাকায় নিহত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন।




















