ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করবে ​ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভর করে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পথে ভারত মাভাবিপ্রবি’তে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত ২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, প্রয়োজনে ৮২ বছরেও গণতন্ত্রের জন্য লড়ব হাসিনার পথ অনুসরণ করলে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের চেতনায় গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচার তদন্তে ধীরগতি

​ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভর করে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পথে ভারত

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আইএমএফের (IMF) প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৮-২৯ অর্থবছরে (FY29) ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই তথ্য জানান।

​সংবাদটির বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তা হলো এই যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬)’ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বর্তমান মূল্যে ভারতের জিডিপি (GDP) আনুমানিক ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

​অর্থমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, এমএসএমই (MSME), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে এক সমন্বিত প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করেছে।

প্রধান কৌশল ও উদ্যোগসমূহ
​সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

​১. ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প খাত
​উৎপাদন বৃদ্ধি: প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস পলিসির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​এমএসএমই (MSME) সহায়তা: জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), সহজ ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

​২. সেবা ও উদীয়মান খাত
​ডিজিটাল ও অবকাঠামো: ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাস্তুতন্ত্র শক্তিশালী করা হচ্ছে।

​২০২৬-২৭ বাজেট ঘোষণা: জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট স্থাপন, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং ‘এভিজিসি’ (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
​কৌশলগত খাত: সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ক্লিন এনার্জি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উচ্চ-প্রযুক্তির খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘পিএম-সেতু’ (PM-SETU) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

৩. কৃষি ও বাণিজ্য
​কৃষিতে সেচ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।
​পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ এবং জিএসটি (GST) ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

​🏦 ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য

​অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান: ​সারফায়েসাই আইন (SARFAESI Act): ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ১,০৩,১৮০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২,১৫,৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে।

​পুনরুদ্ধার: এর মধ্যে ব্যাংকগুলো সফলভাবে ৩২,৪৬৬ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

​ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডিজিটাল অর্থনীতিতে ভর করে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের পথে ভারত

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আইএমএফের (IMF) প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৮-২৯ অর্থবছরে (FY29) ভারতের অর্থনীতি ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই তথ্য জানান।

​সংবাদটির বিশ্লেষণ করলে যা পাওয়া যায় তা হলো এই যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (এপ্রিল ২০২৬)’ অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বর্তমান মূল্যে ভারতের জিডিপি (GDP) আনুমানিক ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

​অর্থমন্ত্রী জানান, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার কৃষি, ম্যানুফ্যাকচারিং, এমএসএমই (MSME), অবকাঠামো, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে এক সমন্বিত প্রবৃদ্ধি কৌশল গ্রহণ করেছে।

প্রধান কৌশল ও উদ্যোগসমূহ
​সরকার অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে শক্তিশালী করতে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।

​১. ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প খাত
​উৎপাদন বৃদ্ধি: প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) স্কিম, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘পিএম গতিশক্তি’ এবং নতুন লজিস্টিকস পলিসির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​এমএসএমই (MSME) সহায়তা: জরুরি ঋণ নিশ্চয়তা প্রকল্প (ECGS), সহজ ‘উদ্যম রেজিস্ট্রেশন’ এবং ‘পিএম বিশ্বকর্মা’ যোজনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

​২. সেবা ও উদীয়মান খাত
​ডিজিটাল ও অবকাঠামো: ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাস্তুতন্ত্র শক্তিশালী করা হচ্ছে।

​২০২৬-২৭ বাজেট ঘোষণা: জাতীয় আতিথেয়তা ইনস্টিটিউট স্থাপন, আঞ্চলিক মেডিকেল হাব এবং ‘এভিজিসি’ (অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, গেমিং ও কমিকস) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
​কৌশলগত খাত: সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, ক্লিন এনার্জি এবং বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের মতো উচ্চ-প্রযুক্তির খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘পিএম-সেতু’ (PM-SETU) প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে।

৩. কৃষি ও বাণিজ্য
​কৃষিতে সেচ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে।
​পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্প্রসারণ এবং জিএসটি (GST) ও আয়কর সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

​🏦 ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য

​অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান: ​সারফায়েসাই আইন (SARFAESI Act): ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ১,০৩,১৮০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে ২,১৫,৭০৯টি মামলা দায়ের করেছে।

​পুনরুদ্ধার: এর মধ্যে ব্যাংকগুলো সফলভাবে ৩২,৪৬৬ কোটি টাকা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।