অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
হাসিনার পথ অনুসরণ করলে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নতুন রাষ্ট্র গঠনের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে অতীতের স্বৈরাচারী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। তিনি বলেন, যদি কেউ শেখ হাসিনার রাজনীতি, ভাষা বা আচরণের পুনরাবৃত্তি করেন, তাহলে তা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে দেশের মানুষ চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা থাকলে সবাইকে তার নেতৃত্বকে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত জনগণই করবে এবং নির্বাচনই সেই রায় দেওয়ার একমাত্র গণতান্ত্রিক মাধ্যম।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের ধারাবাহিকতাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিণতি লাভ করে। দীর্ঘ আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া এবং নির্যাতনের শিকার হওয়া গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে থাকা নেতা-কর্মীদের ভূমিকাও স্মরণ করেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান বা কারাবরণের অভিজ্ঞতা কাউকে আইন নিজের হাতে নেওয়া বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অধিকার দেয় না। আওয়ামী লীগের মতো জুলুম-নির্যাতনের রাজনীতি অনুসরণের অনুমতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাউকে দেননি। কেউ এমন চেষ্টা করলে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন এবং বিএনপিতে তার স্থান হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, যেখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ দিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও তারা স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। তাই নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে সুযোগ এসেছে, তা রক্ষা করার দায়িত্বও তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি।
তিনি অভিযোগ করেন, এই সুযোগ নষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। সে কারণে সবাইকে সতর্ক থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সরকারের দায়িত্ব পালনে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এমপি বা মন্ত্রী না হয়েও তৃণমূল পর্যায়ে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের এ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা যশোর দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটলেও বর্তমান সরকার সে ধরনের কোনো প্রশ্রয় দেবে না।





















