ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচার তদন্তে ধীরগতি বিদেশ পালানোর শঙ্কায় চার সিটি কর্মকর্তার দেশত্যাগে কড়াকড়ি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা, তিন দিন পর মিলল মরদেহ রাজধানীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই: নয়াদিল্লি ১২ বছর প্রবাসে পরিবার গড়ার স্বপ্ন, শেষ আশ্রয় হলো রাস্তার পাশে আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

তিন বছরেও শেষ হয়নি দুদকের অনুসন্ধান

দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচার তদন্তে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসা’ধারী ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বহুল আলোচিত অনুসন্ধান তিন বছরেও শেষ হয়নি। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় পর আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র বলছে, তদন্তে গতি আনতেই নতুন করে বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন (এসটিআর/এসএআর) এবং অন্যান্য আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তবে এত দীর্ঘ সময়েও অনুসন্ধান শেষ না হওয়ার বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম মনে করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুসন্ধান বছরের পর বছর ঝুলে থাকা স্বাভাবিক নয়। তাঁর ভাষায়, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সরাসরি তদারকি থাকলে তদন্ত অনেক আগেই শেষ হতে পারত। তিনি বলেন, অনুসন্ধানের নামে দীর্ঘসূত্রতা আইনের চেতনার পরিপন্থী এবং এটি হতাশাজনক।

অভিযোগের সূত্রপাত

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ২০২৩ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৫৯ বাংলাদেশি অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক সুবিধা ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়েছেন এবং সেখানে অন্তত ৯৭২টি সম্পত্তি কিনেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পত্তিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পত্তি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এরপর বিষয়টি দেশে আলোচনায় এলে অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পড়ে দুদকের কাছে।

আদালতের নির্দেশ, তবু ধীরগতি

অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশের পরও অনুসন্ধান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি।

এর আগে গত বছর ৪৫৯ জনের তালিকা থেকে ৭০ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে তাঁদের আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংক লেনদেনের তথ্য অপরিহার্য হওয়ায় এবার বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কেন জটিল এই অনুসন্ধান

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণ করতে শুধু বিদেশে সম্পত্তির তথ্য যথেষ্ট নয়। অর্থের উৎস, ব্যাংকিং চ্যানেল, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিএফআইইউর তথ্য অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুদকের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলে ৪৫৯ জনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের বক্তব্য

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তিন বছরেও শেষ হয়নি দুদকের অনুসন্ধান

দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচার তদন্তে ধীরগতি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসা’ধারী ৪৫৯ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বহুল আলোচিত অনুসন্ধান তিন বছরেও শেষ হয়নি। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় পর আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র বলছে, তদন্তে গতি আনতেই নতুন করে বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন (এসটিআর/এসএআর) এবং অন্যান্য আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তবে এত দীর্ঘ সময়েও অনুসন্ধান শেষ না হওয়ার বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম মনে করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুসন্ধান বছরের পর বছর ঝুলে থাকা স্বাভাবিক নয়। তাঁর ভাষায়, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের সরাসরি তদারকি থাকলে তদন্ত অনেক আগেই শেষ হতে পারত। তিনি বলেন, অনুসন্ধানের নামে দীর্ঘসূত্রতা আইনের চেতনার পরিপন্থী এবং এটি হতাশাজনক।

অভিযোগের সূত্রপাত

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ২০২৩ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৪৫৯ বাংলাদেশি অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে পাচার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক সুবিধা ‘গোল্ডেন ভিসা’ নিয়েছেন এবং সেখানে অন্তত ৯৭২টি সম্পত্তি কিনেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্পত্তিবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পত্তি কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। এরপর বিষয়টি দেশে আলোচনায় এলে অর্থ পাচারের অভিযোগ জমা পড়ে দুদকের কাছে।

আদালতের নির্দেশ, তবু ধীরগতি

অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশের পরও অনুসন্ধান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি।

এর আগে গত বছর ৪৫৯ জনের তালিকা থেকে ৭০ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করে তাঁদের আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী ও আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি দেওয়া হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের জন্য ব্যাংক লেনদেনের তথ্য অপরিহার্য হওয়ায় এবার বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কেন জটিল এই অনুসন্ধান

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচারের অভিযোগ প্রমাণ করতে শুধু বিদেশে সম্পত্তির তথ্য যথেষ্ট নয়। অর্থের উৎস, ব্যাংকিং চ্যানেল, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই বিএফআইইউর তথ্য অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুদকের দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য হাতে এলে ৪৫৯ জনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাবে। অভিযোগের সত্যতা মিললে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং-সংক্রান্ত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুদকের বক্তব্য

দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তথ্য পাওয়ার পর সেগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।