রাষ্ট্রপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন তারেক রহমান
পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় বিএনপি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২১:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর এটিই ছিল স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক। রাত ৮টা থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য কোনো প্রার্থীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডকে জানাবেন।
বৈঠকে কয়েকজন সদস্য মত দেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা থাকলেও প্রয়োজন হলে এর আগেই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। এ কারণে কেউ কেউ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝির পরিবর্তে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সংসদের অধিবেশন আহ্বানের প্রস্তাব দেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (১ সেপ্টেম্বর) শেষে অধিবেশন ডাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলেও মত দেন তারা।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়েছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন তপশিল ঘোষণা করার পর দলের মনোনয়ন বিষয়ে চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে ভোটের আয়োজন করা হবে।
পাঁচ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় বিএনপি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। বিএনপির মত, চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণ শেষ করা যেতে পারে।
দলটি আগের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বৈঠকে বলা হয়, দলীয় প্রতীক ছাড়া যে কেউ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে প্রতিটি স্তরে একক প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব জেলা ও থানা বিএনপির ওপর থাকবে। তারা সমঝোতায় ব্যর্থ হলে বিষয়টি বিভাগীয় নেতারা নিষ্পত্তি করবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা
বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিনের শাসনামলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা পুনর্গঠনের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগলেও ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যারা উপস্থিত ছিলেন
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস (ভার্চুয়ালি), ড. আব্দুল মঈন খান (ভার্চুয়ালি), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন অংশ নেন।



















