তথ্য বিভ্রাট ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একসময় তথ্যের অপ্রতুলতা ছিল সমাজের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন)।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও সাংবাদিকতার আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। এতে মুখ্য আলোচক ছিলেন দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্যের প্রাচুর্যের এই যুগে জনমত প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করে সত্য উদ্ঘাটন করা এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা।
তিনি বলেন, সত্যনিষ্ঠা ও বস্তুনিষ্ঠতাই সাংবাদিকতার মৌলিক ভিত্তি। জনকল্যাণ সাংবাদিকতার অন্যতম উদ্দেশ্য হলেও সেই লক্ষ্য অর্জনের পূর্বশর্ত হলো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা। কারণ কোনো পূর্বনির্ধারিত অবস্থান বা উদ্দেশ্য যদি সত্য অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করে, তাহলে সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের পেশা নয়; এটি রাষ্ট্র ও সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার গণমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মর্যাদা এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। পাশাপাশি অপতথ্য মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাকস্বাধীনতা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও দায়িত্ববোধ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজস্ব রাজনৈতিক, দার্শনিক ও আদর্শিক অবস্থান থেকে মত প্রকাশ করেন, তাই মতের ভিন্নতা থাকবেই। তবে স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বশীলতার সমন্বয় নিশ্চিত করতেই সরকার একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও দায়িত্ব—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করেই অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চায় সরকার।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জহির উদ্দিন স্বপন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, এই ক্যাম্পাসে কাটানো সময় তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলোর একটি এবং এখানে ফিরে আসা তাঁর জন্য গভীর নস্টালজিয়ার অনুভূতি তৈরি করে।


















