বাংলাদেশ-মিয়ানমার বাণিজ্য সম্প্রসারণে জোর, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর আলোচনা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, সরাসরি নৌ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো মো বৈঠক করলে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানি, সরাসরি নৌপরিবহন চালু এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাণিজ্য, পরিবহন, সীমান্ত যোগাযোগ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত যেসব বিষয় একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং বিদ্যমান সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সো মো দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। প্রয়োজনে প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
বৈঠকে কৃষি ও মৎস্যপণ্য, চাল, ওষুধ এবং হিমায়িত খাদ্যসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ এবং বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রত্যাবাসনের জন্য পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে কার্যকর ও দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক আয়োজন এবং বাংলাদেশে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরাসরি নৌ ও শিপিং যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষের মতে, সরাসরি নৌ যোগাযোগ চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমবে, পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং মিয়ানমার দূতাবাসের কাউন্সিলর ম্যাট লুইন উপস্থিত ছিলেন।


















