প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয় যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় দেখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তার ভাষ্য, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক আস্থা এবং সম্পর্কের গভীরতার প্রতিফলন, যা একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিশেষ দূতের এ সফর ছিল মূলত পরিচিতিমূলক। তবে এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন দূতের মন্তব্য ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী এক দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিকেন্দ্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।
হুমায়ুন কবিরের মতে, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত গণসমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করেছে। সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে কূটনীতি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হচ্ছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বরাজধানীগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশটি কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তার ব্যক্তিগত নেতৃত্ব, বিনয় এবং সহজে যোগাযোগযোগ্য ব্যক্তিত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং বিদেশি সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন ঐতিহ্যগত ধর্মীয় বন্ধনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগোচ্ছে। প্রয়োজনে আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তবে এ সহযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
চীনের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো চীনা কোম্পানিকে নিয়ে আলোচনার বিষয়টি বৈঠকে ওঠেনি। তবে বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশ থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে। বিনিয়োগকে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র না বানিয়ে সব উন্নয়ন অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।

















