কাঁঠালবাগানে মা ও নানিকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
এক বছরের শিশুর চোখের সামনে ভেঙে গেল পৃথিবী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
একটি ছোট্ট শিশুর বয়স মাত্র এক বছর। পৃথিবী বলতে যার কাছে ছিল মা আর নানি। কিন্তু রোববার সকালের কয়েকটি মুহূর্ত সেই শিশুর জীবন থেকে কেড়ে নিল সবচেয়ে আপন দুই মানুষকে। রাজধানীর কাঁঠালবাগানের একটি বাসায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকার আল-আমিন মসজিদ রোডের ৫২/২ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৪৫)।
নিহত ফিরোজা বেগমের স্বামী মো. ফারুক হোসেন জানান, সকালে ফোনে তিনি জানতে পারেন, বাসায় মেয়ে ফারজানা ও জামাই শিপনের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে। উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত বাসায় ফিরেই তিনি দেখেন, ফারজানা রক্তাক্ত অবস্থায় নিথর পড়ে আছেন। আর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন স্ত্রী ফিরোজা বেগম। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায়। গত সপ্তাহে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মা-মেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। পরে শিপনও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে বিয়ের দিন সকালেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধের জেরেই শিপন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ঢাকায় ফিরে আসেন।
শনিবার রাতে পরিবারের সবাই রাজধানীতে ফিরে এলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রোববার সকালে আবারও কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফারজানা ও তার মা ফিরোজা বেগমকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এরপর এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যান।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, অভিযুক্ত শিপন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার পর শোক আর স্তব্ধতায় ভরে উঠেছে দুটি পরিবার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন সেই এক বছরের শিশুকে ঘিরে—যে এখনও বুঝতে শেখেনি মৃত্যু কী, কিন্তু এক সকালেই হারিয়েছে তার মা ও নানিকে। পরিবারের সদস্যদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশুটির ভবিষ্যৎ, আর সমাজের কাছে আবারও উঠে এসেছে প্রশ্ন—পারিবারিক বিরোধের পরিণতি কেন এমন নির্মম হবে?



















