মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫ এজেন্সি, শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সরকারের বক্তব্য কী?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আবারও বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের জন্য ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
দেশটির অনলাইনভিত্তিক কেন্দ্রীয় অভিবাসী কর্মী ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউএমএস)-এ এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে মালয়েশিয়ার তালিকায় ২৫টি এজেন্সির নাম আসার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আগের সিদ্ধান্ত কি তাহলে বদলে গেল?
যদিও প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলছেন, বাংলাদেশের দিক থেকে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলই কাজ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তালিকায় থাকা সব রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।
‘মালয়েশিয়ার তালিকা তাদের নিজস্ব’
মালয়েশিয়ার প্রকাশিত ২৫ এজেন্সির তালিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়া সরকার নিজেদের প্রক্রিয়া অনুযায়ী তালিকা করেছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো হবে বোয়েসেলের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তালিকায় থাকা সব রিক্রুটিং এজেন্সিই এ প্রক্রিয়ায় কাজ করার সুযোগ পাবে। এ নিয়ে ‘হাইড অ্যান্ড সিকের কিছু নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে জনশক্তি রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মালয়েশিয়ার ২৫ এজেন্সির তালিকাকে সম্ভাব্য ‘নতুন সিন্ডিকেট’ হিসেবে দেখছেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, শ্রমবাজার চালু নিয়ে কী করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তবে তিনি চান, সবাই যেন কাজ করার সুযোগ পান এবং শ্রমিকরা নিরাপদে ও কম খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারেন।
কবে খুলছে শ্রমবাজার?
গত ৩০ জুলাই কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে গেছে। আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া শুরু হতে পারে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।
এর আগে মালয়েশিয়া সরকার ২০২৪ সালের মে মাসের শেষে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের জন্য কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ওই সময় ছুটিতে দেশে আসা অনেক বাংলাদেশি কর্মীও আর মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারেননি।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়।
জুনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সময়ও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে জুলাইয়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সফরে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে অগ্রগতির কথা জানানো হয়।
বোয়েসেলকে ঘিরে আগের সিদ্ধান্ত
কুয়ালালামপুরে জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানিয়েছিলেন, প্রথম ধাপের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি মালিকানাধীন জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে শুক্রবার মালয়েশিয়ার এফডব্লিউএমএস প্ল্যাটফর্মে ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার উইংয়ের মিনিস্টার (লেবার) ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ এখনো তাঁদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
৩৪০ এজেন্সির তালিকা বাংলাদেশে
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার যাচাই-বাছাই করে সেই তালিকা থেকে ৩৪০টি এজেন্সি চূড়ান্ত করেছে।
সরকার বলছে, শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোই তাদের মূল লক্ষ্য।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার
বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। ১৯৭৮ সালে মাত্র ২৩ জন বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।
এরপর এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি কর্মী গেছেন বলে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। তবে বিভিন্ন সময়ে শ্রমবাজার বন্ধ ও পুনরায় চালুর কারণে মালয়েশিয়াকে জনশক্তি রপ্তানি খাতে একটি ‘অনির্ভরযোগ্য’ বা ‘আনস্টেবল’ বাজার হিসেবেও দেখেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর শ্রমবাজার বাস্তবে কবে খুলছে, কী প্রক্রিয়ায় কর্মী যাবে এবং অভিবাসন ব্যয় কত হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায়।



















