মিষ্টির টাকা দিয়ে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসা, পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে সহপাঠীর ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায় ৪০ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিল টাঙ্গাইলের সখীপুরের একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের সেই মানবিক উদ্যোগ এবার পেল আরও বড় সহায়তা। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। একই সঙ্গে ওই মায়ের চিকিৎসার জন্য আরও তিন লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেওয়ান হুমায়ূন কবীর রিপন, সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এ কে এম মামুনুর রশীদ, থানার ওসি মুরাদ হোসেনসহ বিদ্যালয়ের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি ক্যানসার আক্রান্ত ওই মায়ের বাড়িতে গেছেন এবং কলতান বিদ্যানিকেতনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসার জন্য অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে বন্ধুর পাশে
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কয়েক দিন আগে নাঈমের মায়ের শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হলেও অসচ্ছল পরিবারটির পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বন্ধুর পরিবারের এই সংকটের কথা জানতে পেরে নাঈমের সহপাঠীরা ভিন্নভাবে আনন্দ উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরীক্ষায় পাসের আনন্দে মিষ্টি কিনে খাওয়ার বদলে সেই অর্থ বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
গত ১৬ আগস্ট নাঈমের দাদা আবদুস সাত্তার সিকদারের হাতে ৪০ হাজার টাকা তুলে দেয় সহপাঠীরা। পরে বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকও এই মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হন।
শিক্ষার্থীদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে ১৬ আগস্ট ‘আজকের পত্রিকা’সহ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে এলে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হলো। পাশাপাশি আরও তিন লাখ টাকা দেওয়ার আশ্বাসে বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় শিক্ষার্থীদের ছোট্ট উদ্যোগটি পেল বড় পরিসরের সহায়তা।
মিষ্টির কয়েক হাজার টাকার আনন্দ বিসর্জন দিয়ে যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিল শিক্ষার্থীরা, সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত আরও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।























