ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসুখ সারাতে গিয়ে লিভারের ক্ষতি করছেন না তো? ওষুধের ভুলেই বাড়তে পারে বিপদ বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারির শাস্তি, নিষিদ্ধ মেসির চার সতীর্থ-কোচ ৩৩৫ কোটির দুর্গ, রান্নাঘর থেকে ডাইনিংয়ে হাঁটতেই লাগে সাড়ে ৪ মিনিট নতুন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর চূড়ান্ত, কে কোন মন্ত্রণালয়ে শেখ হাসিনা ইস্যুতে আটকে গেলে ক্ষতি বাংলাদেশেরই সত্য ও জনগণের রাজনৈতিক স্পৃহাকে চিরতরে দমিয়ে রাখা যায় না: তথ্যমন্ত্রী লন্ডনে পৌঁছাতেই ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা রদবদল, নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, বঙ্গভবনে শপথ মন্ত্রিসভায় নতুন চার মুখ, একাধিক মন্ত্রণালয়ে রদবদলের আভাস

অসুখ সারাতে গিয়ে লিভারের ক্ষতি করছেন না তো? ওষুধের ভুলেই বাড়তে পারে বিপদ

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অসুখ হলে দ্রুত সুস্থ হতে ওষুধ খাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ওষুধই যদি ভুল মাত্রায় বা ভুলভাবে খাওয়া হয়, তাহলে উপকারের বদলে শরীরে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের ঝুঁকি। বিশেষ করে লিভারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওষুধের কারণে লিভারের ক্ষতি শুরু হলেও প্রথম দিকে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের কারণে হওয়া লিভারের ক্ষতিকে বলা হয় ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি (DILI)। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ খাওয়া, একই উপাদান থাকা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শুধু অ্যালকোহল নয়, ওষুধেও ক্ষতি

লিভারের অসুখের কথা উঠলেই অনেকের প্রথমে অ্যালকোহলের কথা মনে আসে। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন ওষুধ লিভারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ প্যারাসিটামল। জ্বর বা ব্যথা কমাতে বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধ নির্ধারিত মাত্রায় সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে গুরুতর লিভার ক্ষতি, এমনকি লিভার ফেলিওরও হতে পারে।

বিপদের আরেকটি জায়গা হলো ঠান্ডা, কাশি ও ফ্লুর ওষুধ। এসবের কিছুতে প্যারাসিটামল থাকতে পারে। ফলে আলাদাভাবে প্যারাসিটামল খাওয়ার পাশাপাশি একই উপাদানযুক্ত সর্দি-কাশির ওষুধ খেলে অজান্তেই মোট মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

‘হার্বাল’ মানেই নিরাপদ নয়

প্রাকৃতিক বা হার্বাল পণ্যকে অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। কিছু হার্বাল পণ্য ও ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে ক্ষতি গুরুতর হয়ে তীব্র লিভার ফেলিওরের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাপ্লিমেন্টে থাকা উপাদানের মান, ঘনত্ব ও পরিমাণ সবসময় একইভাবে নিয়ন্ত্রিত নাও হতে পারে। তাই ‘ন্যাচারাল’ লেখা থাকলেই সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

একসঙ্গে কয়েক ধরনের ওষুধেই বাড়তে পারে ঝুঁকি

মাথাব্যথার জন্য একটি ব্যথানাশক, সর্দি-কাশির জন্য আরেকটি ওষুধ এবং সঙ্গে কোনো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট—আলাদাভাবে প্রতিটি নিরাপদ মনে হলেও একসঙ্গে গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে গেলে শুধু প্রেসক্রিপশনের ওষুধের কথা বললেই হবে না। নিয়মিত খাওয়া ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ভিটামিন, মিনারেল ও হার্বাল সাপ্লিমেন্টের কথাও জানানো জরুরি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ওষুধজনিত লিভারের সমস্যার শুরুতে উপসর্গগুলো অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। যেমন—

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • পেটে অস্বস্তি
  • প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় হওয়া
  • চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

গুরুতর অবস্থায় বিভ্রান্তি বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে শুরুতে প্রায় কোনো উপসর্গই নাও থাকতে পারে।

লিভার সুরক্ষায় যা মনে রাখবেন

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ওষুধ খাবেন না। একই সময়ে একাধিক ওষুধ খেলে সেগুলোর উপাদান একই কি না, তা খেয়াল করুন। বুঝতে সমস্যা হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত যেসব ওষুধ, ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, সেগুলোর একটি তালিকা রাখাও ভালো। চিকিৎসকের কাছে গেলে তালিকাটি দেখান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ওষুধ অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে কিংবা ওষুধ সেবনের পর অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

ওষুধ শরীর সুস্থ করার জন্যই। তবে সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা ও সঠিক নিয়ম না মানলে সেই ওষুধই কখনো কখনো লিভারের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অসুখ সারাতে গিয়ে লিভারের ক্ষতি করছেন না তো? ওষুধের ভুলেই বাড়তে পারে বিপদ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:১৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

অসুখ হলে দ্রুত সুস্থ হতে ওষুধ খাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ওষুধই যদি ভুল মাত্রায় বা ভুলভাবে খাওয়া হয়, তাহলে উপকারের বদলে শরীরে তৈরি হতে পারে বড় ধরনের ঝুঁকি। বিশেষ করে লিভারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওষুধের কারণে লিভারের ক্ষতি শুরু হলেও প্রথম দিকে অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের কারণে হওয়া লিভারের ক্ষতিকে বলা হয় ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি (DILI)। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ খাওয়া, একই উপাদান থাকা একাধিক ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করা কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।

শুধু অ্যালকোহল নয়, ওষুধেও ক্ষতি

লিভারের অসুখের কথা উঠলেই অনেকের প্রথমে অ্যালকোহলের কথা মনে আসে। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন ওষুধ লিভারের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ প্যারাসিটামল। জ্বর বা ব্যথা কমাতে বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধ নির্ধারিত মাত্রায় সাধারণত নিরাপদ। কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে গুরুতর লিভার ক্ষতি, এমনকি লিভার ফেলিওরও হতে পারে।

বিপদের আরেকটি জায়গা হলো ঠান্ডা, কাশি ও ফ্লুর ওষুধ। এসবের কিছুতে প্যারাসিটামল থাকতে পারে। ফলে আলাদাভাবে প্যারাসিটামল খাওয়ার পাশাপাশি একই উপাদানযুক্ত সর্দি-কাশির ওষুধ খেলে অজান্তেই মোট মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

‘হার্বাল’ মানেই নিরাপদ নয়

প্রাকৃতিক বা হার্বাল পণ্যকে অনেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। কিছু হার্বাল পণ্য ও ডায়েটারি সাপ্লিমেন্টও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে ক্ষতি গুরুতর হয়ে তীব্র লিভার ফেলিওরের মতো জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাপ্লিমেন্টে থাকা উপাদানের মান, ঘনত্ব ও পরিমাণ সবসময় একইভাবে নিয়ন্ত্রিত নাও হতে পারে। তাই ‘ন্যাচারাল’ লেখা থাকলেই সেটিকে ঝুঁকিমুক্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

একসঙ্গে কয়েক ধরনের ওষুধেই বাড়তে পারে ঝুঁকি

মাথাব্যথার জন্য একটি ব্যথানাশক, সর্দি-কাশির জন্য আরেকটি ওষুধ এবং সঙ্গে কোনো ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট—আলাদাভাবে প্রতিটি নিরাপদ মনে হলেও একসঙ্গে গ্রহণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকের কাছে গেলে শুধু প্রেসক্রিপশনের ওষুধের কথা বললেই হবে না। নিয়মিত খাওয়া ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ, ভিটামিন, মিনারেল ও হার্বাল সাপ্লিমেন্টের কথাও জানানো জরুরি।

যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

ওষুধজনিত লিভারের সমস্যার শুরুতে উপসর্গগুলো অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। যেমন—

  • অস্বাভাবিক ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • পেটে অস্বস্তি
  • প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় হওয়া
  • চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া

গুরুতর অবস্থায় বিভ্রান্তি বা মানসিক অবস্থার পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে শুরুতে প্রায় কোনো উপসর্গই নাও থাকতে পারে।

লিভার সুরক্ষায় যা মনে রাখবেন

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ওষুধ খাবেন না। একই সময়ে একাধিক ওষুধ খেলে সেগুলোর উপাদান একই কি না, তা খেয়াল করুন। বুঝতে সমস্যা হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত যেসব ওষুধ, ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, সেগুলোর একটি তালিকা রাখাও ভালো। চিকিৎসকের কাছে গেলে তালিকাটি দেখান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ওষুধ অতিরিক্ত খেয়ে ফেললে কিংবা ওষুধ সেবনের পর অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না।

ওষুধ শরীর সুস্থ করার জন্যই। তবে সঠিক ওষুধ, সঠিক মাত্রা ও সঠিক নিয়ম না মানলে সেই ওষুধই কখনো কখনো লিভারের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।