১২ বছর প্রবাসে পরিবার গড়ার স্বপ্ন, শেষ আশ্রয় হলো রাস্তার পাশে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
একসময় সংসারের স্বপ্ন পূরণে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সৌদি আরবে। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ পাঠিয়েছেন পরিবারের জন্য। কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর সেই মানুষটির শেষ আশ্রয় হলো রাস্তার পাশে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে জামাল উদ্দিনের জীবনকাহিনি এখন এলাকাজুড়ে বেদনার এক প্রতিচ্ছবি।
অভিযোগ উঠেছে, শনিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার কালমেঘা এলাকায় অসুস্থ জামাল উদ্দিনকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান তার সাবেক স্ত্রী ও সন্তানরা। রাতভর বৃষ্টির মধ্যে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি আশ্রয় পান এক আত্মীয়ের বাড়িতে।
জামাল উদ্দিন (৪৯) উপজেলার কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ২৫ বছর আগে নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান এবং প্রায় ১২ বছর প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করেন। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময়ে তিনি উপার্জিত লক্ষাধিক টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন।
কয়েক বছর আগে কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন জামাল। দেশে ফেরার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসা ও দেখভালের ক্ষেত্রেও তিনি পরিবারের অবহেলার শিকার হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান তার সাবেক স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানরা। পরে প্রবল বৃষ্টিতে তিনি মানবেতর অবস্থায় পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ জানান, বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসী মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এগিয়ে আসেন এবং জামাল উদ্দিনের নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামালের বড় ভাই সোহরাব আলীর কণ্ঠেও ছিল দীর্ঘশ্বাস। তিনি বলেন, “অনেক আগেই ভাইকে বলেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে কারও কথা শোনেনি। আজ শুনলাম, অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিনা আক্তার। তিনি বলেন, “আমি কয়েক মাস আগেই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। এখন তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাতে তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছেছেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ ও পরিবারের পাল্টা বক্তব্য—দুটিই সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—অসুস্থ একজন মানুষকে ঘিরে যে মানবিক সংকটের ছবি সামনে এসেছে, তা সমাজকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়, সমাজেরও।




















