জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের অবসানের ঐতিহাসিক বিজয়: প্রধানমন্ত্রী

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দ, বিজয় ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। ঠিক দুই বছর আগে এদিন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে দেশে শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয় এবং অনেককে গুম করা হয়। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেকের এখনো সন্ধান মেলেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয় এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ পাচারকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, কৃষক, নারী, শিশু, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। আন্দোলন দমনে গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়। এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মায়ের কোলে থাকা শিশুও রক্ষা পায়নি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধসহ গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, তাদের আত্মত্যাগই আন্দোলনের শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার। শত শত মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার, মন্ত্রিসভা, কথিত সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তার ভাষায়, ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি সংগ্রামে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি তাদের কাছে ঋণী। সেই ঋণ শোধ করতে হলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও জনগণের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা থাকবে, তবে তা যেন বিভেদ বা শত্রুতায় রূপ না নেয়। গণতন্ত্রের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষার যুদ্ধ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।”




















