তথ্য উপদেষ্টা
আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবার সব বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। দুই দেশের আলোচনার ফলেই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে হাজারো কর্মপ্রত্যাশী সেখানে যাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই স্থবিরতা দূর করে নিয়মিতভাবে কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করা।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, অতীতে সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে অনেক কর্মী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবার সরকার একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কোনো সিন্ডিকেট বা অসাধু চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে।
তিনি বলেন, কর্মী নির্বাচন, নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিদেশে পাঠানোর প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশগামী শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসন, অধিকার সুরক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




















