ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: তথ্যমন্ত্রী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের চেতনায় গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী দুবাইয়ের ‘গোল্ডেন ভিসাধারী’ ৪৫৯ বাংলাদেশির অর্থ পাচার তদন্তে ধীরগতি বিদেশ পালানোর শঙ্কায় চার সিটি কর্মকর্তার দেশত্যাগে কড়াকড়ি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই জুলাই আন্দোলন সফল : প্রধানমন্ত্রী সরকারি অফিসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা, তিন দিন পর মিলল মরদেহ

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের পর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান হওয়া উচিত নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম, আর সেই ইতিহাসই এখানে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই জুলাইয়ের শহীদদেরও জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সৃষ্টি করে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি না করেন। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনের বাস্তব চিত্রও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে এই জাদুঘর।

তিনি আরও বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও এখানে সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ বা অতিরঞ্জিত বর্ণনা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায়ও তথ্য উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে এবং হতাহতদের সহায়তায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।

বক্তব্যের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে বিগত ১৭ বছর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের পর ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই জাদুঘর কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার স্থান হওয়া উচিত নয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম, আর সেই ইতিহাসই এখানে যথাযথভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মতোই জুলাইয়ের শহীদদেরও জাতি চিরদিন স্মরণ করবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় ইস্যু সৃষ্টি করে কেউ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে পতিত স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি না করেন। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ইতিহাস তুলে ধরবে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনের বাস্তব চিত্রও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে এই জাদুঘর।

তিনি আরও বলেন, শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসও এখানে সংরক্ষিত হওয়া প্রয়োজন। ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অসম্পূর্ণ বা অতিরঞ্জিত বর্ণনা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি বাংলা ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায়ও তথ্য উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, গেজেটভুক্ত ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে এবং হতাহতদের সহায়তায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বিএনপির ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার এবং জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য।

বক্তব্যের শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের পাশে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

আলোচনা সভা শেষে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।