স্থানীয় সরকার ভোটে দলীয় প্রতীক নয়, নির্দলীয় মাঠ চায় জামায়াত-এনসিপি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্দলীয় প্রতীকে ভোটে যেতে চায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে ভোটের মাঠে নামার আগে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন বিরোধীজোটের নেতারা।
একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে রাজনৈতিক দলের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখন সেই প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম।
তিনি বলেন, ‘পাঁচটি নির্বাচন করার জন্য—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের জন্য টাকা রাখা আছে।’
তবে নির্বাচনের অর্থ ও আয়োজনের চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনী পরিবেশ কতটা নিরপেক্ষ থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে তারা ভোটে অংশ নেবেন। কিন্তু সেই নির্বাচন হতে হবে অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। কিন্তু নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ। এখনো আমাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে না পারবে, ততক্ষণ আস্থা রাখা কঠিন।’
নির্বাচন কমিশনে দলীয় নিয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, শুধু ভোটের দিন সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করলেই হবে না; নির্বাচনের আগে প্রশাসন, কমিশন ও মাঠপর্যায়ের পুরো ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ করতে হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে দলীয় ব্যক্তিদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় লোকজনকে বসানো হয়েছে। সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আখতার হোসেন বলেন, ‘জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদেও তারা তাদের লোককে বসিয়েছে। এর বাইরে সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন সংস্থায় তাদের দলীয় লোক রয়েছে।’
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানিয়েছেন, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।
ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এখন মূল প্রশ্ন—নির্দলীয় প্রতীকে ভোট হলেও মাঠ কি সত্যিই থাকবে দলীয় প্রভাবমুক্ত? নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে এই ভোটের গ্রহণযোগ্যতা।























