ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি কমাতে দাউদপুরে ‘মিনি উপজেলা’ সড়কে নজরদারির নতুন চোখ, আরও ৫০ পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা স্থানীয় সরকার ভোটে দলীয় প্রতীক নয়, নির্দলীয় মাঠ চায় জামায়াত-এনসিপি সরকারের সমালোচনা করতেই হবে, তবে ভাষায় সংযম চান আইনমন্ত্রী গ্যাস আমদানির নামে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এক সাংবাদিকের না-বলা কষ্ট নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান একই ঘরে চার লাশ, তবু রয়ে গেছে প্রশ্ন—রংপুরের গণপতি পরিবারের হত্যার নেপথ্যে কী?

সড়কে নজরদারির নতুন চোখ, আরও ৫০ পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক আইন ভাঙার চিত্র বদলাতে এবার আরও বেশি প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে ট্রাফিক পুলিশ। রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে বসানো হচ্ছে এআই ক্যামেরা।

ইতোমধ্যে রাজধানীর ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চালু হয়েছে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল। এর কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছে এআই ক্যামেরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রযুক্তির নজরদারিতে সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করা আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে।

শুধু ট্রাফিক পুলিশের নজরদারিই নয়, চালকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের সতর্কতা। সিগন্যাল অমান্য করলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত হয়ে মামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চালক এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে মানুষকে একদিনে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

এরই মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও এআইভিত্তিক নজরদারির কার্যকারিতা দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এক দিনেই ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে।

তবে প্রযুক্তি এলেই যে ঢাকার ট্রাফিক সমস্যার পুরো সমাধান হবে, তা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু সিগন্যাল অমান্যকারী গাড়ি শনাক্ত করলেই হবে না; ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র পথচারী পারাপার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এআই প্রযুক্তির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে বাড়ানো হচ্ছে জনবলও। নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ইউনিটের সদস্যদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে ঢাকার সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে ক্যামেরার চোখ, ডেটার বিশ্লেষণ আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সড়কে নজরদারির নতুন চোখ, আরও ৫০ পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০৮:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার যানজট ও ট্রাফিক আইন ভাঙার চিত্র বদলাতে এবার আরও বেশি প্রযুক্তির ওপর ভরসা করছে ট্রাফিক পুলিশ। রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আরও ৫০টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে বসানো হচ্ছে এআই ক্যামেরা।

ইতোমধ্যে রাজধানীর ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চালু হয়েছে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল। এর কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে যুক্ত করা হয়েছে এআই ক্যামেরা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রযুক্তির নজরদারিতে সিগন্যাল অমান্যসহ বিভিন্ন ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করা আগের তুলনায় সহজ হচ্ছে।

শুধু ট্রাফিক পুলিশের নজরদারিই নয়, চালকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের সতর্কতা। সিগন্যাল অমান্য করলে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত হয়ে মামলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেক চালক এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম থেকে মানুষকে একদিনে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব নয়। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

এরই মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও এআইভিত্তিক নজরদারির কার্যকারিতা দেখা গেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে এক দিনেই ৪৪৯টি মামলা করা হয়েছে।

তবে প্রযুক্তি এলেই যে ঢাকার ট্রাফিক সমস্যার পুরো সমাধান হবে, তা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু সিগন্যাল অমান্যকারী গাড়ি শনাক্ত করলেই হবে না; ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, যত্রতত্র পথচারী পারাপার এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলও বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এআই প্রযুক্তির কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে বাড়ানো হচ্ছে জনবলও। নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গড়ে তোলার কাজ চলছে।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ইউনিটের সদস্যদের প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে ঢাকার সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে ক্যামেরার চোখ, ডেটার বিশ্লেষণ আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি।