পীরস্থানের জমি দখলের অভিযোগ, কবর ও ঘর ভাঙচুরের দাবি; থানায় অভিযোগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় পীরস্থানের জমি দখল, কবর ও ঘর ভাঙচুর এবং সেখানে পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানা (৪৪)।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—মো. কাশেম আলী, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. নূর নবী, মো. রশিদুল ইসলাম, মোছা. হেনা বেগম, মো. জোবায়দুর রহমান এবং মো. সাইদুর রহমান ওরফে বাবু।
যেভাবে ঘটনার অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে সোহেল রানা দাবি করেন, পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় সিএস ও এসএ খতিয়ানে থাকা প্রায় পাঁচ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে পীরস্থানের ধর্মীয় স্থান হিসেবে স্থানীয় মুসলিমরা ব্যবহার করে আসছেন। তাঁর দাবি, জমিটি বিক্রয়যোগ্য না হলেও অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত কাশেম আলী বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় করে পরবর্তীতে নামজারি করেন। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই পীরস্থানের জমি দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দা, হাসুয়া, শাবল, কুড়াল ও কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে পীরস্থানের জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে থাকা একটি ঘর ও পীরের কবর ভাঙচুর করে প্রায় তিন শতক জমি দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ওই রাতেই ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে দখল করা জায়গায় পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগও করা হয়।
প্রতিবাদে গেলে হুমকির অভিযোগ
সোহেল রানা অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, পরদিন ২২ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখান এবং বাধা দিলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সদর থানায় দেওয়া অভিযোগের সঙ্গে সিএস ও এসএ খতিয়ানের কপি, দলিল, খারিজ খতিয়ানের কপি এবং স্থানীয়দের স্বাক্ষরযুক্ত গণপিটিশন সংযুক্ত করেছেন অভিযোগকারী।
অভিযুক্তের বক্তব্য
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাশেম আলী বলেন, ‘নিয়ম মেনেই জমি ক্রয় করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হচ্ছে। সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাজাহান আলী বলেন, ‘জমি দখলের বিষয়ে গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে অভিযোগে ওঠা জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল এবং ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

























