ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার মরদেহ ঘরে, জমি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ; পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন একই পরিবারের ৪ হত্যা: পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্ত গেল ডিবিতে আশ্রয়প্রার্থীদের বড় ধাক্কা, ২ লাখের ভিসা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র রাজপথের লড়াই থেকে নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল ইসলাম আরিফ অসহায় মানুষের জন্য ‘শ্যামল বাংলা ফ্রি মেডিকেল সেন্টার’ চালু ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন ১৪ মার্চ শুরু ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা, শেষ ১৫ এপ্রিল ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি পুনর্বহালের উদ্যোগ মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন নিয়ম, মানতে হবে ৮ ধাপ বিদ্যালয় আছে, শিক্ষক নেই—টাঙ্গাইলে শূন্য ১,৪৫৯ পদ

একই পরিবারের ৪ হত্যা: পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্ত গেল ডিবিতে

রংপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার তদন্তভার সরিয়ে মামলাটি দেওয়া হয়েছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)।

পুলিশের দাবি, তদন্তকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ করার পাশাপাশি দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেন।

আসামিদের জবানবন্দিতে পুলিশের বক্তব্যের মিল

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আসামিদের বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গেছে। তবে জবানবন্দিতে এমন কিছু তথ্যও এসেছে, যা পুলিশের কাছে আগে বলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আদালত সূত্রে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, আসামিরা অ্যাজ ইট ইজ—আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা বলেছেন। তবে তাঁরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন বিষয়ও যুক্ত করেছেন, যেগুলো আমাদের বলেনি।’

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবেন জানিয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্যই মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যে বক্তব্যের পর প্রশ্নের সূত্রপাত

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন দুই যুবক। শব্দ পেয়ে গণপতি সেখানে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।

এই বক্তব্য প্রকাশের পরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে অধিকতর তদন্তের দাবি ওঠে। এ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও হয়েছে।

এমনকি গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—দুই ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করল এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না।

এর মধ্যেই মামলার তদন্তভার থানার কাছ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হলো।

উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তদন্তের এত দ্রুত একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বাস্তবতার মিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

তাঁদের প্রশ্ন—যদি ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যেই গণপতির বাড়ির ছাদে যাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? বিদ্যুৎ সংযোগ কখন, কেন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল? ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছরের শিশু আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যার কারণ কী?

এ ছাড়া সিদ্ধার্থ দাসের বাড়ি গণপতির বাড়ির সীমানাঘেঁষা হওয়া সত্ত্বেও হত্যার পর সেখানে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে থাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রথমদিকে ডাকাতির কথা বলা হলেও পরে মাদক সেবনকে হত্যার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে—এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, এটি কি সত্যিই মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে রয়েছে পূর্বপরিকল্পনা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য কিংবা আরও কারও সম্পৃক্ততা?

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা এসব প্রশ্নসহ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে নিভে গেল একটি পরিবার

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে নিজস্ব দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন।

অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন তিনি।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ।

পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এখন নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—পুলিশের প্রাথমিক বয়ান, আসামিদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত—এই তিনটির মধ্যে কতটা মিল রয়েছে এবং চার হত্যার প্রকৃত কারণ কী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একই পরিবারের ৪ হত্যা: পুলিশের বয়ান ঘিরে প্রশ্ন, তদন্ত গেল ডিবিতে

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক বক্তব্য নিয়ে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার তদন্তভার সরিয়ে মামলাটি দেওয়া হয়েছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি)।

পুলিশের দাবি, তদন্তকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ করার পাশাপাশি দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেই তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মামলার নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত নতুন তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জিন্নাত আলীর কাছে হস্তান্তর করেন।

পরে দুই তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। সেখানে আগের তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বিষয় নতুন তদন্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেন।

আসামিদের জবানবন্দিতে পুলিশের বক্তব্যের মিল

ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আসামিদের বক্তব্য পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই মিলে গেছে। তবে জবানবন্দিতে এমন কিছু তথ্যও এসেছে, যা পুলিশের কাছে আগে বলা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘আদালত সূত্রে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, আসামিরা অ্যাজ ইট ইজ—আমাদের কমিশনার স্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের যেটা বলেছেন, দেশবাসীকে যেটা জানিয়েছেন, একই ঘটনা বলেছেন। তবে তাঁরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে নতুন বিষয়ও যুক্ত করেছেন, যেগুলো আমাদের বলেনি।’

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখবেন জানিয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্যই মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যে বক্তব্যের পর প্রশ্নের সূত্রপাত

এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ দাবি করেন, বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতির বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন দুই যুবক। শব্দ পেয়ে গণপতি সেখানে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে পরিবারের অন্য তিন সদস্যকেও হত্যা করা হয়।

এই বক্তব্য প্রকাশের পরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে অধিকতর তদন্তের দাবি ওঠে। এ নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভও হয়েছে।

এমনকি গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—দুই ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করল এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না।

এর মধ্যেই মামলার তদন্তভার থানার কাছ থেকে ডিবিতে স্থানান্তর করা হলো।

উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তদন্তের এত দ্রুত একটি পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তাঁদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন বাস্তবতার মিল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

তাঁদের প্রশ্ন—যদি ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যেই গণপতির বাড়ির ছাদে যাওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ঝুঁকি নিয়ে সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন কেন হলো? বিদ্যুৎ সংযোগ কখন, কেন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল? ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ১২ বছরের শিশু আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে হত্যার কারণ কী?

এ ছাড়া সিদ্ধার্থ দাসের বাড়ি গণপতির বাড়ির সীমানাঘেঁষা হওয়া সত্ত্বেও হত্যার পর সেখানে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে থাকার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রথমদিকে ডাকাতির কথা বলা হলেও পরে মাদক সেবনকে হত্যার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়েছে—এ বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।

আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, এটি কি সত্যিই মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে রয়েছে পূর্বপরিকল্পনা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য কিংবা আরও কারও সম্পৃক্ততা?

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা এসব প্রশ্নসহ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে নিভে গেল একটি পরিবার

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকলেও মাছুয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে নিজস্ব দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন তিনি। প্রায় দুই-তিন বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসবাস করছিলেন।

অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখতেন তিনি।

গত শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ।

পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এখন নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—পুলিশের প্রাথমিক বয়ান, আসামিদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত—এই তিনটির মধ্যে কতটা মিল রয়েছে এবং চার হত্যার প্রকৃত কারণ কী।