বাবার মরদেহ ঘরে, জমি ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ; পুলিশের হস্তক্ষেপে দাফন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই জমি ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই ভাই। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হয়।
সোমবার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বৃদ্ধের নাম আব্দুল খালেক (৯০)।
কবরের জায়গা নিয়েই বাধে বিরোধ
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে আব্দুল খালেকের বড় ছেলে মাহাবুর রহমান বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থানসহ বাবার সম্পত্তির সবটুকু নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে তিনি বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে আলাদা বসবাস শুরু করেন।
এরপর স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় ছোট ভাই আছাবুর রহমান বড় ভাই মাহাবুরের কাছ থেকে পুরোনো বসতবাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান কিনে নেন। সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাসও শুরু করেন তিনি।
তবে জীবনের শেষ সময়ে অসুস্থ বাবা বড় ছেলে মাহাবুরের কাছেই ছিলেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে আব্দুল খালেক মারা গেলে তাঁকে পুরোনো পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খুঁড়তে যান মাহাবুর। এ সময় ছোট ভাই আছাবুর কবর খোঁড়ায় বাধা দেন। তাঁর দাবি, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন, তাই কবরস্থানের জায়গার মালিকানাও তাঁর।
এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে আহত দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই পক্ষের লোকজন একে অপরকে মারধর করেন। এতে বড় ভাই মাহাবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম ও মেয়ে লিলিমা খাতুন এবং ছোট ভাই আছাবুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী হালিমা বেগম আহত হন।
আহতদের পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে বাবার মরদেহ দাফনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পারিবারিক কবরস্থানেই আব্দুল খালেকের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেকসানা খাতুন বলেন, সংঘর্ষে দুই পক্ষের চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় বৃদ্ধের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




















