রাজপথের লড়াই থেকে নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে আরিফুল ইসলাম আরিফ
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
সংগ্রাম, সাহস আর ত্যাগ—এই তিন শব্দেই যেন লেখা যায় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম আরিফের রাজনৈতিক পথচলার গল্প। মিছিল থেকে গ্রেপ্তার, মামলা থেকে নির্যাতন, হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের আইসিইউ—সব প্রতিকূলতা পেরিয়েও রাজপথ ছাড়েননি তিনি। দীর্ঘ এই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
ছাত্ররাজনীতির শুরু থেকেই রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন আরিফ। ২০১২ সালে সরকারবিরোধী একটি মিছিল থেকে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর একের পর এক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়ে বারবার গ্রেপ্তার ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায় আসে ২৮ অক্টোবরের ঘটনায়। পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হত্যার অভিযোগে তাঁকে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, রিমান্ডে প্রায় ১৭ ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই নির্যাতনও তাঁকে রাজপথের আন্দোলন থেকে সরাতে পারেনি।
এরপর ৩১ জুলাই ‘March for Justice’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকার হাইকোর্টের সামনে থেকে আবারও গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলা-নির্যাতনেও থামেনি পথচলা
শুধু গ্রেপ্তার কিংবা মামলা নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে একাধিকবার হামলারও শিকার হয়েছেন আরিফ।
২০২২ সালের ২৬ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে টানা চার দিন সমরিতা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এরপর একই বছরের ৮ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে আবারও গুরুতর আহত হন।
সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে। রামপুরায় পুলিশের টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হন আরিফ। পরে মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাঁকে।
তবে প্রতিবারই চিকিৎসা শেষে আবার ফিরেছেন রাজপথে। তাঁর অনুসারীদের ভাষায়, আঘাত তাঁকে থামিয়েছে, কিন্তু আন্দোলন থেকে সরাতে পারেনি।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে দীর্ঘ পথ
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আরিফুল ইসলাম আরিফ ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন।
রাজপথের আন্দোলন, মামলা, গ্রেপ্তার, হামলা ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাই এখন তাঁকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদপ্রার্থীর অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সমর্থকদের কাছে আরিফ শুধু একজন ছাত্রনেতা নন; তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকার প্রতিচ্ছবি। তাঁদের দাবি, কঠিন সময়ে রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং বারবার ঝুঁকি নিয়ে সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য তিনি একজন পরীক্ষিত মুখ।
এখন তাঁর সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়। আরিফুল ইসলাম আরিফ সেই পথচলায় দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।




















