নির্বাচনী বিরোধ থেকে হত্যার পরিকল্পনা! ১০ বছর পর ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের মাদারগঞ্জে আলোচিত চাচা-ভাতিজা জোড়া খুনের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় ১০ বছর পর রায় হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজন ও বাদীপক্ষ।
যাদের মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মাদারগঞ্জের আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার সাখাওয়াত (৩২), মো. সোহেল (৩০), আল আমিন (৩০), সাদ্দাম (৩০), উজ্জল (৩০), অন্তর (৩০) ও ফয়জুর (৩২)।
অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁন মিয়া (৫০), মো. জিয়ার (৪৫), শাহ আলম (৪১), কাওসার (২৯), রিফাত (৩১), সুমন (৩১) ও মোস্তফা (৪৯)।
নির্বাচনী বিরোধ থেকে হত্যার পরিকল্পনা
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দিদারুল ইসলাম দিদার জানান, ২০১৬ সালে আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফুর রহমান আতা ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ইছাহাকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইছাহাকের সমর্থক ও আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ। মোস্তফার বাড়ি শনাক্ত করতে না পেরে পুলিশ প্রতিবেশী মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে ঠিকানা জানতে চায়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা—এমনটাই মামলার তদন্তে উঠে আসে।
গান-বাজনার কথা বলে ডেকে নিয়ে হত্যা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় সাখাওয়াত ও সোহেল। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পরে জবাই করে দুজনকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মহর আলী (১৯) ছিলেন মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) পড়তেন সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণিতে।
২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় অন্য আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
মামলায় মোট ৪২ জনের মধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক দশক পর আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
‘রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকর চাই’
রায়ের পর নিহত স্বপন মিয়ার বাবা ও মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। সরকারের কাছে তাঁর দাবি, দ্রুত যেন মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করা হয়।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়। এর আগে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ দুইবার পেছানো হয়েছিল। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমান উল্লাহ আকাশ, নওয়াব আলী ও নজরুল ইসলাম।
























