প্রয়োজনে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে হবে: নুরুল হক

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুরাতন ভবনের একটি কেবিনে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবির ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-শিবিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এখন নির্বাচিত সরকারের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।’
নুরুল হকের দাবি, জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রমের কারণে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশকে আল-কায়েদার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনটির মধ্যে অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম ক্যাডার রয়েছে।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-শিবির ‘মজলুম’ অবস্থানে থাকলেও গত ছয় মাসে তারা ‘জালেম’ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এখন থেকেই এই গোষ্ঠীকে প্রতিরোধ করতে হবে; তা না হলে তারা ‘ভাইরাসের মতো’ ছড়িয়ে পড়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে পারে।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডকে একই ধরনের বলে মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়েছে। আর জামায়াত-শিবির সুযোগ না পেয়েও বিভিন্ন ঘটনায় যে ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে তাদের অতীতের নানা অভিযোগ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। নুরুল হকের অভিযোগ, সরকারে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে জামায়াত বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারকে নিয়ে বিরূপ বক্তব্য দেওয়া শুরু করেছে।
এ সময় জামায়াতের কয়েকজন নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে নুরুল হক বলেন, এসব বক্তব্যকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সমর্থন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী থেকে “ইসলামী” নামটি বাদ দেওয়া উচিত। কারণ তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে ইসলামেরই বেশি ক্ষতি করছে।’




















