জয়পুরহাট পৌরসভা
সাড়ে ৬ হাজার টাকা না দিলে মিলছে না নাগরিক সনদ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
জয়পুরহাট পৌরসভায় নাগরিকত্ব, মৃত্যু কিংবা ওয়ারিশান সনদ নিতে গিয়ে নতুন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, এসব সনদ পেতে হলে আগে সাবমার্সিবল পাম্পের ফি বাবদ ৬ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। টাকা জমার রসিদ দেখাতে না পারলে মিলছে না প্রয়োজনীয় সনদ।
পৌর কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে নাগরিকদের মধ্যে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এই অতিরিক্ত অর্থের বোঝা বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাগরিকত্ব, মৃত্যু বা ওয়ারিশান সনদ একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা। কিন্তু এসব সেবার সঙ্গে সাবমার্সিবল পাম্পের ফি যুক্ত করার কোনো যৌক্তিকতা তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় সনদ নিতে এসে দিনের পর দিন পৌরসভায় ঘুরতে হচ্ছে অনেককে।
বুলুপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম রোস্তম বলেন, বাসায় নিজস্ব পাম্প থাকায় পানি সংযোগের জন্য তিনি ৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়েছেন। এরপরও ওয়ারিশান সনদ নিতে তাকে দুই দিন ধরে পৌরসভায় ঘুরতে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘ওয়ারিশান সনদের সঙ্গে পাম্পের ফির সম্পর্ক কী?’
আরেক পৌরবাসী মোত্তালেব হোসেন বলেন, রিকশা চালিয়ে সংসার চালানো মানুষের পক্ষে একসঙ্গে ৬ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া কঠিন। অথচ টাকা জমা না দিলে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া হচ্ছে না।
সেবা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী পৌর কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘জুলুম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বকুল বলেন, জনগণের ওপর এ ধরনের অযৌক্তিক নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনস্বার্থে দ্রুত এই হয়রানি বন্ধ করা উচিত।
তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য পৌরসভার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।
অন্যদিকে, পৌরসভার প্রশাসক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত আইনে একটি সেবার শর্ত হিসেবে অন্য কোনো সেবা থেকে নাগরিককে বঞ্চিত করার সুযোগ রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই।
জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আল-মামুন মিয়া বলেন, পৌরসভার কোনো বকেয়া থাকলে অন্য একটি নাগরিক সেবা দেওয়া যাবে না—এমন কোনো লিখিত অভিযোগ তিনি এখনো পাননি। তবে নাগরিকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিকদের প্রশ্ন এখন একটাই—সনদ পেতে কি সত্যিই আগে সাড়ে ৬ হাজার টাকা দিতে হবে? পৌর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও যৌক্তিকতা নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল প্রশ্ন।





















