ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ বছর মাঠে গড়াচ্ছে না বিপিএল, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বিসিবির

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৩তম আসর নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। চলতি বছর আর মাঠে গড়াচ্ছে না দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে ‘গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপিএল নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি সভাপতি।

তামিম ইকবাল বলেন, “এ বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।” তবে টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন কাঠামোয় সাজানোর কাজ চলছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি।

তাঁর ভাষ্য, নতুন রূপরেখার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হবে। নতুন পরিকল্পনায় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ভিন্নধর্মী ও আরও আকর্ষণীয় আয়োজন থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

কেন থামল বিপিএল?

বিপিএল স্থগিত রাখার পেছনে প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বেশ কিছু জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন তামিম। তাঁর মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিয়ম না মানা এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনায় দীর্ঘদিনের শিথিলতাই বিপিএলের অন্যতম বড় সমস্যা।

তামিম বলেন, রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্থায়িত্ব ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজশাহী বকেয়া পরিশোধ করলেও নিয়ম-কানুন মানার ক্ষেত্রে তাদেরও ঘাটতি ছিল বলে জানান তিনি।

বিসিবি সভাপতির দাবি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যর্থতার আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত বোর্ডকেই বহন করতে হয়। কোনো দল টুর্নামেন্টের মাঝপথে সরে গেলে কিংবা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিসিবি।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এ ধরনের কারণে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

তামিমের প্রশ্ন, “ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে তো বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, ক্ষতি কেন হবে?”

তাড়াহুড়ো নয়, স্থায়ী সমাধান

বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর মতে, সাময়িকভাবে আয়োজন না করে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর সমাধান করাই এখন অগ্রাধিকার।

প্রয়োজনে ছয় মাস কিংবা এক বছর সময় লাগলেও বোর্ড সেই সময় নিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে খেলাপি ও নিয়ম ভঙ্গকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জেরে এবং ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে বিপিএল আয়োজন স্থগিত হয়েছিল। এবার অবশ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটে থামছে টুর্নামেন্ট। আর বিসিবির বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের বিরতি বিপিএলকে আরও গোছানো ও টেকসই কাঠামোয় ফেরানোর প্রস্তুতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এ বছর মাঠে গড়াচ্ছে না বিপিএল, বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বিসিবির

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১৩তম আসর নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। চলতি বছর আর মাঠে গড়াচ্ছে না দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নিয়ে ‘গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপিএল নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান বিসিবি সভাপতি।

তামিম ইকবাল বলেন, “এ বছর বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।” তবে টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। বরং ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুন কাঠামোয় সাজানোর কাজ চলছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি।

তাঁর ভাষ্য, নতুন রূপরেখার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হবে। নতুন পরিকল্পনায় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ভিন্নধর্মী ও আরও আকর্ষণীয় আয়োজন থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

কেন থামল বিপিএল?

বিপিএল স্থগিত রাখার পেছনে প্রশাসনিক, আর্থিক ও নীতিগত বেশ কিছু জটিলতার কথা তুলে ধরেছেন তামিম। তাঁর মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নিয়ম না মানা এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনায় দীর্ঘদিনের শিথিলতাই বিপিএলের অন্যতম বড় সমস্যা।

তামিম বলেন, রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজির স্থায়িত্ব ও কমপ্লায়েন্স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রাজশাহী বকেয়া পরিশোধ করলেও নিয়ম-কানুন মানার ক্ষেত্রে তাদেরও ঘাটতি ছিল বলে জানান তিনি।

বিসিবি সভাপতির দাবি, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ব্যর্থতার আর্থিক দায় শেষ পর্যন্ত বোর্ডকেই বহন করতে হয়। কোনো দল টুর্নামেন্টের মাঝপথে সরে গেলে কিংবা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বিসিবি।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এ ধরনের কারণে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

তামিমের প্রশ্ন, “ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে তো বোর্ডের লাভ হওয়ার কথা, ক্ষতি কেন হবে?”

তাড়াহুড়ো নয়, স্থায়ী সমাধান

বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর মতে, সাময়িকভাবে আয়োজন না করে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোর সমাধান করাই এখন অগ্রাধিকার।

প্রয়োজনে ছয় মাস কিংবা এক বছর সময় লাগলেও বোর্ড সেই সময় নিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে খেলাপি ও নিয়ম ভঙ্গকারী ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি।

এর আগে ২০১৪ সালে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জেরে এবং ২০২১ সালে করোনা মহামারির কারণে বিপিএল আয়োজন স্থগিত হয়েছিল। এবার অবশ্য ভিন্ন প্রেক্ষাপটে থামছে টুর্নামেন্ট। আর বিসিবির বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের বিরতি বিপিএলকে আরও গোছানো ও টেকসই কাঠামোয় ফেরানোর প্রস্তুতি।