ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন শুরু ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন, পুরোনো মামলার রায় ঘিরে নতুন প্রশ্ন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা বদলি, দায়িত্ব ছাড়ার সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর ফুটপাতে পড়ে ছিল দুই অচেনা মানুষ, পরিচয়হীনভাবেই থেমে গেল জীবন টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি, হাসপাতাল পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাম-উপসর্গে আক্রান্ত ১,৮৫৫ ব্রিকসে মোদির ১০ দফা রোডম্যাপ, গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেলেন ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন জয়পুরহাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র-রামদা উদ্ধার, পালাল ডাকাত দল ২০২৮-এ নতুন কারিকুলাম, বদলাবে কি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র?

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন, পুরোনো মামলার রায় ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা ও আদালতের রায় নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এরই মধ্যে তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর বাইরে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দায়ের হওয়া এসব মামলা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে একটির নিষ্পত্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, তাঁর মক্কেল ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারও আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, কোনো মামলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই; আদালত যে রায় দিয়েছেন, তার বাইরে যাওয়ারও সুযোগ নেই রাষ্ট্রপক্ষের।

এখানেই সামনে আসছে মূল প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বর্তমান সরকারের সময়ে বিচারিক নিষ্পত্তিকে কীভাবে দেখা হবে? এগুলো কি কেবল আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কোনোভাবে যুক্ত হচ্ছে?

বিশেষ করে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও প্রায় অর্ধশত মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য সামনে আসায় ভবিষ্যতে এসব মামলার গতিপথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একের পর এক মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হলে সেগুলোর প্রভাব শুধু ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অবস্থানের ওপর নয়, তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের ওপরও পড়তে পারে।

তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। রাজনৈতিক বিতর্ক বা অভিযোগের বাইরে প্রতিটি মামলার নথি, অভিযোগের ভিত্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণই নির্ধারণ করবে মামলাগুলোর পরিণতি।

এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

ফলে এখন নজর পূর্ণাঙ্গ রায়ের দিকে। রায়ে আদালত কী যুক্তি দিয়েছেন, কর দাবির ভিত্তি কী এবং সংশ্লিষ্ট আপিল বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সুযোগ কতটা—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার পরই বিতর্কের অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

একদিকে আইনজীবীর ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ অভিযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আদালতের রায়ের বাইরে না যাওয়ার অবস্থান—দুই পক্ষের এই বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন অর্ধশত মামলার ভবিষ্যৎ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন, পুরোনো মামলার রায় ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা ও আদালতের রায় নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এরই মধ্যে তাঁর গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর বাইরে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের কর-সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের রায় প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দায়ের হওয়া এসব মামলা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে একটির নিষ্পত্তি হওয়ায় রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, তাঁর মক্কেল ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার হচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারও আওয়ামী লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, কোনো মামলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই; আদালত যে রায় দিয়েছেন, তার বাইরে যাওয়ারও সুযোগ নেই রাষ্ট্রপক্ষের।

এখানেই সামনে আসছে মূল প্রশ্ন—আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বর্তমান সরকারের সময়ে বিচারিক নিষ্পত্তিকে কীভাবে দেখা হবে? এগুলো কি কেবল আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও কোনোভাবে যুক্ত হচ্ছে?

বিশেষ করে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও প্রায় অর্ধশত মামলা বিচারাধীন থাকার তথ্য সামনে আসায় ভবিষ্যতে এসব মামলার গতিপথও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একের পর এক মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হলে সেগুলোর প্রভাব শুধু ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত অবস্থানের ওপর নয়, তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের ওপরও পড়তে পারে।

তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। রাজনৈতিক বিতর্ক বা অভিযোগের বাইরে প্রতিটি মামলার নথি, অভিযোগের ভিত্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আদালতের পর্যবেক্ষণই নির্ধারণ করবে মামলাগুলোর পরিণতি।

এদিকে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়।

ফলে এখন নজর পূর্ণাঙ্গ রায়ের দিকে। রায়ে আদালত কী যুক্তি দিয়েছেন, কর দাবির ভিত্তি কী এবং সংশ্লিষ্ট আপিল বা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সুযোগ কতটা—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়ার পরই বিতর্কের অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

একদিকে আইনজীবীর ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ অভিযোগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আদালতের রায়ের বাইরে না যাওয়ার অবস্থান—দুই পক্ষের এই বিপরীত বক্তব্যের মধ্যেই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিচারাধীন অর্ধশত মামলার ভবিষ্যৎ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।