ব্রিকসে মোদির ১০ দফা রোডম্যাপ, গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:০৫:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
ব্রিকস সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বনেতাদের সামনে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর আরও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মোদির বার্তায় উঠে এসেছে ব্রিকসকে আরও কার্যকর, অংশীদারিত্বমূলক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা।
সম্মেলনে মোদি বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো বিশ্বের নানা সংকটের সম্মুখীন হলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এই ‘ক্ষমতার পিরামিড’ ভেঙে এমন একটি অংশীদারিত্বের মঞ্চ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কথা বলার সুযোগ থাকবে এবং সবার স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তাঁর ভাষায়, কোনো একটি পক্ষ অন্যদের ওপর নিয়ম চাপিয়ে দেবে—এমন ব্যবস্থা নয়; বরং সব দেশ মিলে নিয়ম তৈরি করবে। বৈশ্বিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকতে হবে মানবতার অগ্রগতি।
১০ দফা সংস্কারের প্রস্তাব
বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
এই রোডম্যাপের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী—প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও নীতি প্রণয়ন।
প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফল থাকা প্রয়োজন বলেও মত দেন।
একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া দেশগুলোর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যায্য মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত বলে উল্লেখ করেন মোদি।
ব্রিকসে স্থায়ী ধারাবাহিকতার প্রস্তাব
ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব প্রতিবছর পরিবর্তিত হলেও সংগঠনটির কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যেন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সে জন্য নতুন কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন মোদি।
এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি ‘ত্রয়ী’ ব্যবস্থার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি ব্রিকসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছেন।
মোদির মতে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেন ব্রিকসের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সমুদ্রপথের নিরাপত্তাতেও জোর
বিশ্ববাণিজ্যের গতি স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্রপথে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পক্ষেও বক্তব্য দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেন তিনি।
সব মিলিয়ে এবারের ব্রিকস সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথকে বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নিয়ে আসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্যে একই সঙ্গে ব্রিকসের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ভূমিকা জোরদারের বার্তা উঠে এসেছে।
কী এই গ্লোবাল সাউথ?
সাধারণভাবে ‘গ্লোবাল সাউথ’ বলতে উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত ও তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে বোঝানো হয়। এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিপুলসংখ্যক দেশ এর অন্তর্ভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হলেও ভারত ও চীনের মতো দেশকেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্লোবাল সাউথের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই দেশগুলোর দাবি, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় তাদের ভূমিকা বাড়লেও বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোয় সেই অনুপাতে প্রতিনিধিত্ব নেই। ব্রিকসের মঞ্চে মোদির বক্তব্য সেই পুরোনো কাঠামো পরিবর্তনের দাবিকেই নতুন করে সামনে আনল।






















