চিনের বন্ধুত্বের বার্তা, ‘মতপার্থক্য আলোচনায় মিটিয়ে নেব’

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের আগে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিল বেইজিং। দিল্লিতে জিনপিং পা রাখার আগেই চিনের রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং জানিয়ে দিলেন, দুই দেশের মধ্যে থাকা মতপার্থক্য সদর্থক আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় চিনের রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই রাষ্ট্রনেতার কৌশলগত নির্দেশনায় চিন ও ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করবে। দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা, সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চিনের রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, দুই দেশ ভালো প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পরস্পরের সাফল্যে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
তিন বছরে তৃতীয়বার মুখোমুখি
চিনের রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন, শনিবার শি জিনপিং সপারিষদ দিল্লিতে পৌঁছাবেন। তাঁর এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোদী ও জিনপিংয়ের মধ্যে টানা তৃতীয় বছরের মতো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে যাচ্ছে। কাজান ও তিয়ানজিনে দুই নেতার বৈঠকের পর দিল্লিতে তাঁদের ফের মুখোমুখি সাক্ষাৎ হবে।
শেষবার ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন শি জিনপিং। এরপর সীমান্ত উত্তেজনা ও নানা কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। গালওয়ান সংঘর্ষ, ডোকলাম ইস্যু এবং অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান সেই সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
এমন পরিস্থিতির পর জিনপিংয়ের ভারত সফরের আগে চিনের পক্ষ থেকে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বার্তা আসায় বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
সীমান্ত থেকে বাণিজ্য—আলোচনায় কী?
মোদী-জিনপিং বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো কীভাবে সামলানো হবে, সেদিকেও নজর থাকবে।
চিনের রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মতপার্থক্য ‘যথাযথভাবে সামাল দেওয়ার’ বিষয়টি। অর্থাৎ সব বিষয়ে একমত না হলেও আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে বেইজিং।
দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মিললেও সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধগুলো কতটা দ্রুত সমাধানের দিকে এগোয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
নজরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানও
মোদী-জিনপিং বৈঠকের প্রভাব শুধু ভারত-চিন সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
চিন ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দিল্লিতে জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং ভারতের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্যও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে ঢাকার অবস্থান এবং চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমীকরণ নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর থাকবে।
ওয়াশিংটনের নজরও দিল্লিতে
মোদী-জিনপিং বৈঠকের দিকে যুক্তরাষ্ট্রেরও নজর থাকবে। ভারত ও চিন বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি। তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতি হলে তা এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে সীমান্ত উত্তেজনা কমিয়ে দিল্লি ও বেইজিং যদি বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বয় বাড়ায়, তাহলে তার প্রভাব ইন্দো-প্যাসিফিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
তাই জিনপিংয়ের দিল্লি সফর শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সফর নয়; বরং ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সম্ভাবনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
























