ঢাকা ১২:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নজর এড়ালেই ৯/১১-এর মতো হামলা? সতর্ক করলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান বিয়ের পিঁড়িতে মিমি চক্রবর্তী? পাত্র নাকি নৌসেনার কর্মকর্তা ৬৬৬ কোটি টাকার রায়, ইউনূসের বিরুদ্ধে কি খুলল নতুন আইনি পথ? ১০ বছরে কুমিল্লা অঞ্চলে বন্ধ ১২ ট্রেন, রেল যোগাযোগে নীরব সংকট অসুস্থতা ও চিকিৎসার খরচের চাপ, শেষ চিঠিতে অসহায় পুলক চলতি বছরেই ৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড: প্রধানমন্ত্রী আলোচনাতেই সংঘাতের সমাধান, পুতিনকে মোদীর বার্তা চাকরির ফাঁদ থেকে হ্যাকিং—খুলশীর আটতলায় ৬৩ বিদেশির ‘সাইবার ঘাঁটি’ প্রেমের বিয়ে অস্বীকার, নবজাতক ফেলে পালানোর চেষ্টা আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

নজর এড়ালেই ৯/১১-এর মতো হামলা? সতর্ক করলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে বিশ্বকে নতুন করে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান কেন ম্যাককলাম। তাঁর আশঙ্কা, গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকা কোনো জায়গাকে লক্ষ্য করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মতো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এ লেখা এক নিবন্ধে ম্যাককলাম বলেন, ৯/১১ হামলা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি হলেও শুধু অতীতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ পরবর্তী বড় হামলা কোথায়, কীভাবে কিংবা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

তাঁর মতে, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পুরোনো হামলার ধরন বিশ্লেষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকির দিকেও নজর বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারির আওতার বাইরে থাকা কোনো স্থান বা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

‘আল-কায়দা এখনও বড় হামলার ক্ষমতা রাখে’

ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে আল-কায়দার প্রসঙ্গ। সংগঠনটি আগের তুলনায় দুর্বল হলেও তাদের বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ম্যাককলাম।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখনও হামলার পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি, ম্যাঞ্চেস্টারে কয়েকশ ইহুদিকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার একটি ষড়যন্ত্র সম্প্রতি নস্যাৎ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর সক্রিয়তা সম্পর্কে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি শুধু আল-কায়দা বা প্রচলিত সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন ম্যাককলাম। রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট নাশকতা, অপরাধীদের ব্যবহার করে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাইবার আক্রমণের মতো ঝুঁকিও বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

বদলে যাচ্ছে হামলার ধরন

ম্যাককলামের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধু প্রচলিত বোমা হামলা বা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার হামলা কিংবা তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করে নাশকতার মতো পদ্ধতিও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে অপ্রত্যাশিত হুমকি শনাক্ত করা। কোথা থেকে, কোন পদ্ধতিতে এবং কখন বড় ধরনের হামলা আসতে পারে—সেটিই এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় প্রশ্ন।

৯/১১ বদলে দিয়েছিল বিশ্ব

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়দার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে এবং চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলার নেপথ্যে ছিল আল-কায়দা এবং সংগঠনটির তৎকালীন নেতা ওসামা বিন লাদেন।

৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানবন্দর তল্লাশি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২৫ বছর পরও যদি গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকা জায়গা থেকে নতুন ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নজর এড়ালেই ৯/১১-এর মতো হামলা? সতর্ক করলেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:২৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তির প্রাক্কালে বিশ্বকে নতুন করে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই৫-এর প্রধান কেন ম্যাককলাম। তাঁর আশঙ্কা, গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকা কোনো জায়গাকে লক্ষ্য করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মতো বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এ লেখা এক নিবন্ধে ম্যাককলাম বলেন, ৯/১১ হামলা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি হলেও শুধু অতীতের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানো সম্ভব নয়। কারণ পরবর্তী বড় হামলা কোথায়, কীভাবে কিংবা কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালানো হবে, তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

তাঁর মতে, তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে পুরোনো হামলার ধরন বিশ্লেষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন ঝুঁকির দিকেও নজর বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারির আওতার বাইরে থাকা কোনো স্থান বা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

‘আল-কায়দা এখনও বড় হামলার ক্ষমতা রাখে’

ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধানের সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে আল-কায়দার প্রসঙ্গ। সংগঠনটি আগের তুলনায় দুর্বল হলেও তাদের বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ম্যাককলাম।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো এখনও হামলার পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি, ম্যাঞ্চেস্টারে কয়েকশ ইহুদিকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার একটি ষড়যন্ত্র সম্প্রতি নস্যাৎ করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলোর সক্রিয়তা সম্পর্কে নতুন করে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

তবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি শুধু আল-কায়দা বা প্রচলিত সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে মনে করেন ম্যাককলাম। রাষ্ট্রের মদতপুষ্ট নাশকতা, অপরাধীদের ব্যবহার করে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাইবার আক্রমণের মতো ঝুঁকিও বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

বদলে যাচ্ছে হামলার ধরন

ম্যাককলামের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধু প্রচলিত বোমা হামলা বা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার হামলা কিংবা তৃতীয় পক্ষকে ব্যবহার করে নাশকতার মতো পদ্ধতিও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ কারণে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে অপ্রত্যাশিত হুমকি শনাক্ত করা। কোথা থেকে, কোন পদ্ধতিতে এবং কখন বড় ধরনের হামলা আসতে পারে—সেটিই এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম বড় প্রশ্ন।

৯/১১ বদলে দিয়েছিল বিশ্ব

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে আল-কায়দার ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করা হয়। এর মধ্যে দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে এবং চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।

ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলার নেপথ্যে ছিল আল-কায়দা এবং সংগঠনটির তৎকালীন নেতা ওসামা বিন লাদেন।

৯/১১-এর পর বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমানবন্দর তল্লাশি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২৫ বছর পরও যদি গোয়েন্দা নজরদারির বাইরে থাকা জায়গা থেকে নতুন ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে তা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।