ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাজনৈতিক যোগসাজশ ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন শুরু ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন, পুরোনো মামলার রায় ঘিরে নতুন প্রশ্ন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা বদলি, দায়িত্ব ছাড়ার সময়সীমা ২২ সেপ্টেম্বর ফুটপাতে পড়ে ছিল দুই অচেনা মানুষ, পরিচয়হীনভাবেই থেমে গেল জীবন টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি, হাসপাতাল পরিষ্কার করলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু, হাম-উপসর্গে আক্রান্ত ১,৮৫৫ ব্রিকসে মোদির ১০ দফা রোডম্যাপ, গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দিতে চায় ভারত সরকারি খরচে আইনি সহায়তা পেলেন ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন জয়পুরহাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র-রামদা উদ্ধার, পালাল ডাকাত দল

২০২৮-এ নতুন কারিকুলাম, বদলাবে কি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাথমিক শিক্ষায় আবারও কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের প্রাথমিক স্তরে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছে সরকার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অক্সফোর্ডএকিউএ লিডারশিপ সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন কারিকুলাম আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে।

তবে নতুন কারিকুলাম আনার ঘোষণা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না। শুধু কারিকুলাম বদলালেই কি শিক্ষার বৈষম্য কমবে, নাকি এর সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার দিকেও নজর দিতে হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ইংলিশ মাধ্যম, বাংলা মাধ্যমসহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অভিন্ন কারিকুলামের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের বিভিন্ন ধারার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কতটা কমানো যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ইংলিশ ও বাংলা মাধ্যমের শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষক প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা সমন্বয় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

শুধু প্রাথমিক স্তরেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নত বিশ্বের শিক্ষার মানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন। তবে উন্নত বিশ্বের মডেল অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাস্তবতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে—নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২০২৮ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে তাই শুধু নতুন কারিকুলামের ঘোষণা নয়, এর বাস্তবায়ন কাঠামো, শিক্ষক প্রস্তুতি এবং সব ধরনের বিদ্যালয়ে সমানভাবে প্রয়োগের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২০২৮-এ নতুন কারিকুলাম, বদলাবে কি প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় আবারও কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের প্রাথমিক স্তরে নতুন কারিকুলাম চালু করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করার কথাও জানিয়েছে সরকার।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অক্সফোর্ডএকিউএ লিডারশিপ সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন কারিকুলাম আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে নিবন্ধিত শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে।

তবে নতুন কারিকুলাম আনার ঘোষণা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—বারবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না। শুধু কারিকুলাম বদলালেই কি শিক্ষার বৈষম্য কমবে, নাকি এর সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার দিকেও নজর দিতে হবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। একই সঙ্গে ইংলিশ মাধ্যম, বাংলা মাধ্যমসহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিন্ন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অভিন্ন কারিকুলামের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশের বিভিন্ন ধারার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কতটা কমানো যাবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ইংলিশ ও বাংলা মাধ্যমের শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষক প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতার মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা সমন্বয় করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

শুধু প্রাথমিক স্তরেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নত বিশ্বের শিক্ষার মানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের ওপর জোর দেন। তবে উন্নত বিশ্বের মডেল অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাস্তবতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা কতটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে—নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

২০২৮ সালের লক্ষ্য সামনে রেখে তাই শুধু নতুন কারিকুলামের ঘোষণা নয়, এর বাস্তবায়ন কাঠামো, শিক্ষক প্রস্তুতি এবং সব ধরনের বিদ্যালয়ে সমানভাবে প্রয়োগের সক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে।