ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নির্বাচনী বিরোধ থেকে হত্যার পরিকল্পনা! ১০ বছর পর ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, পেলেন ২৫৫ ভোট নিউমার্কেটের হোটেলে এত মৃত্যু কীভাবে? ফরেনসিকের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য এক ছাদের নিচে আরবের স্বাদ, বিয়ন্ড বুফেতে জমজমাট ফুড ফেস্টিভ্যাল একাদশে ভর্তির আবেদন ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস শুরু ২৩ সেপ্টেম্বর সাড়ে ৬ হাজার টাকা না দিলে মিলছে না নাগরিক সনদ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ফখরুলের উত্তরসূরি কে? যা বললেন ফয়সল আমিন হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর ভোট দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ড. ইউনূস-হাসনাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

নিউমার্কেটের হোটেলে এত মৃত্যু কীভাবে? ফরেনসিকের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর কারণ আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া বেশি দায়ী বলে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশনে থাকা এসির তার বা পোর্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসি যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে ছিল। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাতের পর আশপাশের অন্যান্য বৈদ্যুতিক তারেও আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভরে যায়।

ধোঁয়ার ঘনত্ব এত বেশি ছিল যে, হোটেলের আবাসিকরা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগও ঠিকমতো পাননি। শেষ পর্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

একই তলায় ছিলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক ও পরিবার

অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ওই তলাতেই ছিলেন বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও বাবা। সাংবাদিকের বাবা ছিলেন একটি কক্ষে, আর সাংবাদিক স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ছিলেন অন্য কক্ষে।

আগুন লাগার পর তাঁরা প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুজনের মরদেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া রিসেপশনের পাশের কক্ষে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান। তিনিও ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বুধবার সব মরদেহের শনাক্তকরণ শেষ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হোটেলের লিজহোল্ডার

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক মালিকের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোটেলের আবাসিক ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তদন্তকারীরা এখন আগুনের উৎসের পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

আগুনের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল ধোঁয়া

ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের পাশাপাশি বিষাক্ত ধোঁয়াই কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া কক্ষগুলোতে ঢুকে পড়ায় অনেক আবাসিকের বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন—শুধু বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকেই কি এই ভয়াবহতা, নাকি অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনাও ৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নিউমার্কেটের হোটেলে এত মৃত্যু কীভাবে? ফরেনসিকের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:৪৯:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর কারণ আগুনের চেয়ে বিষাক্ত ধোঁয়া বেশি দায়ী বলে ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তিনতলার রিসেপশনে থাকা এসির তার বা পোর্ট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফরেনসিক পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসি যেখানে ছিল, সেই অংশ কিছুটা ফুলে ছিল। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাতের পর আশপাশের অন্যান্য বৈদ্যুতিক তারেও আগুন ধরে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই কালো ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভরে যায়।

ধোঁয়ার ঘনত্ব এত বেশি ছিল যে, হোটেলের আবাসিকরা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগও ঠিকমতো পাননি। শেষ পর্যন্ত বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।

একই তলায় ছিলেন বাংলাদেশি সাংবাদিক ও পরিবার

অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ওই তলাতেই ছিলেন বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রের সাংবাদিক, তাঁর স্ত্রী, শিশুসন্তান ও বাবা। সাংবাদিকের বাবা ছিলেন একটি কক্ষে, আর সাংবাদিক স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ছিলেন অন্য কক্ষে।

আগুন লাগার পর তাঁরা প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুজনের মরদেহ প্যাসেজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া রিসেপশনের পাশের কক্ষে ছিলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসোয়ান। তিনিও ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান। তাঁর বুকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বুধবার সব মরদেহের শনাক্তকরণ শেষ না হওয়ায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার মরদেহগুলোর ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হোটেলের লিজহোল্ডার

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজহোল্ডার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হোটেলের ম্যানেজার ও এক কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক মালিকের সন্ধানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোটেলের আবাসিক ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তদন্তকারীরা এখন আগুনের উৎসের পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।

আগুনের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল ধোঁয়া

ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুনের পাশাপাশি বিষাক্ত ধোঁয়াই কতটা প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া কক্ষগুলোতে ঢুকে পড়ায় অনেক আবাসিকের বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন—শুধু বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকেই কি এই ভয়াবহতা, নাকি অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনাও ৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী?