ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ দেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

কীভাবে হত্যা করা হয় হাদিকে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁর অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

অভিযোগপত্রে ১৭ আসামি

গত ৬ জানুয়ারি মামলাটিতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের আগের তদন্তে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

তবে বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ২৭ সেপ্টেম্বর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ দেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।

কীভাবে হত্যা করা হয় হাদিকে

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তাঁর অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

অভিযোগপত্রে ১৭ আসামি

গত ৬ জানুয়ারি মামলাটিতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এতে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের আগের তদন্তে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

তবে বাদীর নারাজি আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটির অধিকতর তদন্ত চলছে। সেই তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।