ড. ইউনূস-হাসনাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী মামলাটি করার আবেদন করেন। সকাল ১১টার দিকে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেওয়ার কথা জানান বিচারক। দুপুরে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানিয়েছে।
মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাড়াও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য আক্তার হোসেনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া এনসিপি নেতা সার্জিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারওয়ারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়।
কী অভিযোগ করা হয়েছিল
মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ১ থেকে ৯ নম্বর আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ, উসকানি এবং সহযোগিতায় কয়েক হাজার ব্যক্তি বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ধানমন্ডি ৩২-এর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের নথি, দলিল, প্রামাণ্যচিত্র, বইসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ও মূল্যবান সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে বুলডোজার, এক্সকাভেটর ও ভারী যন্ত্রপাতি এনে রাতভর ভবনটি ভাঙা হয় এবং পরদিন ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চলে।
হাসনাতের পোস্টের বিষয়ও উল্লেখ
মামলার আবেদনে হাসনাত আব্দুল্লাহর একটি ফেসবুক পোস্টের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি ‘আজ রাত বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্ত হবে’—এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে বাদীপক্ষ দাবি করেছে।
এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে ভবনটি ধ্বংস করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিল।
তবে আদালত মামলার আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।





















