ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত জানান। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বক্তব্যে তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্মরণ করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে তাঁর কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যের মধ্যেই অন্তত চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে পুরো সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে তাঁরা জানান।

এদিকে, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন। তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের দূরত্ব যেন তৈরি না হয় এবং দলীয় ঐক্য অটুট থাকে—সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশনাও দেন বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে। ফলে বুধবারের সংসদীয় দলের সভায় তাঁর বক্তব্যটি ছিল বর্তমান সংসদে সহকর্মীদের সামনে শেষ বক্তব্য—যা শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেজা এক আবেগঘন বিদায় মুহূর্তে পরিণত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কান্নায় ভেঙে পড়লেন মির্জা ফখরুল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বারবার কেঁদেছেন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীও দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত জানান। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বক্তব্য দিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বক্তব্যে তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। স্মরণ করেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। কৃতজ্ঞতা জানান দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে তাঁর কোনো ভুল হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।

তিনি বলেন, দল তাঁকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তিনি সেই সম্মান রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, কয়েক মিনিটের বক্তব্যের মধ্যেই অন্তত চার থেকে পাঁচবার কান্নায় ভেঙে পড়েন মির্জা ফখরুল। এতে পুরো সভায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে তাঁরা জানান।

এদিকে, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন। তৃণমূলের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের দূরত্ব যেন তৈরি না হয় এবং দলীয় ঐক্য অটুট থাকে—সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন তিনি। জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে কাজ করার নির্দেশনাও দেন বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত হলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে। ফলে বুধবারের সংসদীয় দলের সভায় তাঁর বক্তব্যটি ছিল বর্তমান সংসদে সহকর্মীদের সামনে শেষ বক্তব্য—যা শেষ পর্যন্ত কান্নায় ভেজা এক আবেগঘন বিদায় মুহূর্তে পরিণত হয়।