এইচএসসিতে পাস ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫, বিপরীতে আসন প্রায় ১৫ লাখ
উচ্চশিক্ষায় খালি থাকবে ৮ লাখের বেশি আসন, সংকট পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আসন আছে প্রায় ১৫ লাখ। অথচ সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। হিসাব বলছে, উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ৮ লাখের বেশি আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এই বিপুল আসনের হিসাব কি উচ্চশিক্ষায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে? বাস্তব চিত্র বলছে, আসনসংখ্যা বেশি হলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ সীমিত।
একদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ভর্তির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বহু কলেজে আসন পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন থাকলেও টিউশন ফি অনেক পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে কাগজে-কলমে আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও শিক্ষার্থীর পছন্দ, আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষার মানের প্রশ্নে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের বাস্তব সুযোগ এক নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে স্নাতক পর্যায়ে মোট আসন ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। বিপরীতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
এই হিসাবে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট আসনের অর্ধেকেরও কম। সব আসনকে সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য ধরে নিলে প্রায় ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৩টি আসন খালি থাকার কথা। তবে এ হিসাব সম্ভাব্য আসন-উদ্বৃত্তের একটি সরল গাণিতিক হিসাব; বাস্তবে সব আসন একই ধরনের কোর্সের নয়, ভর্তির যোগ্যতাও এক নয়। ফলে কত আসন শেষ পর্যন্ত খালি থাকবে, তা ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তবে এত বিপুল আসন থাকার পরও কেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশকে পছন্দের প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা করতে হবে, আর কেন অনেক কলেজে শিক্ষার্থী সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে—সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন মাত্র ৬৩ হাজার, প্রতিযোগিতা লাখো শিক্ষার্থীর
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সেগুলোর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট আসন ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির আসন মাত্র ৬৩ হাজার ৬৫৬টি।
এই ব্যবধানই উচ্চশিক্ষায় সুযোগের বৈষম্যকে সামনে নিয়ে আসে। মোট আসনের বড় অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে থাকলেও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে পড়াশোনা করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসনও সীমিত। বুয়েটে ১ হাজার ৩০৯টি, চুয়েটে ৯৩১টি, রুয়েটে ১ হাজার ২৩৫টি, কুয়েটে ১ হাজার ১০৫টি এবং ডুয়েটে ৭৮০টি আসন রয়েছে।
ফলে প্রায় ১৫ লাখ আসনের হিসাব দিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বাস্তব প্রতিযোগিতা বোঝা যায় না। বরং মূল ক্যাম্পাসের সীমিত আসনই নির্ধারণ করছে কতজন শিক্ষার্থী তাঁদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবেন।
এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থীর সবাই যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিক্যালে ভর্তি হতে চাইবেন, তা নয়। আবার জিপিএ-৫ না পেয়েও অনেকে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেতে পারেন। তাই শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা নির্ধারণ করা যায় না। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী, যোগ্যতা অর্জনকারী ও শেষ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করলেই প্রতিযোগিতার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ লাখ ৪৬ হাজার আসন, শিক্ষার্থী মিলবে তো?
উচ্চশিক্ষার আসনসংখ্যার বড় অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। দেশের ২ হাজার ২৫৭টি অধিভুক্ত কলেজের মধ্যে ৮৮১টিতে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। এসব কলেজে সম্মান কোর্সে আসন সাড়ে চার লাখের বেশি। এ ছাড়া স্নাতক (পাস) কোর্সে প্রায় সাড়ে চার লাখ এবং প্রফেশনাল কোর্সে প্রায় ১০ হাজার আসন রয়েছে।
এত বিপুলসংখ্যক আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের চাহিদা কতটা, তার পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ চিত্র জানা জরুরি। সব কলেজে শিক্ষার্থীদের সমান আগ্রহ না থাকলে কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই আসন পূরণ করতে পারলেও অন্যগুলোতে আসন খালি থেকে যেতে পারে।
বিশেষ করে যেসব কলেজের শিক্ষার মান, শিক্ষকসংখ্যা, অবকাঠামো, অবস্থান কিংবা কর্মসংস্থানমুখী কোর্সের সুযোগ তুলনামূলক দুর্বল, সেগুলো শিক্ষার্থী আকর্ষণে পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে কোন কলেজে কত আসন খালি থাকবে, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট কলেজভিত্তিক আবেদন, ভর্তি ও শিক্ষার্থী ধরে রাখার তথ্য প্রয়োজন।
এখানে প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষার্থীর চাহিদা ও প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাই করে কি আসন নির্ধারণ করা হচ্ছে? কোনো কলেজে বছরের পর বছর আসন খালি থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে কি? আবার কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও গ্রন্থাগার না থাকলে সেই ঘাটতি পূরণে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান মনে করেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—উভয়ই যেন মানসম্মত ও টেকসই ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে জোর করে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।
তাঁর বক্তব্য উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা নিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই কি মূল লক্ষ্য, নাকি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার হওয়া উচিত?
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে, সামর্থ্য আছে কতজনের?
দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে মোট হিসাবের একটি বড় অংশজুড়ে। কিন্তু আসন থাকা মানেই সব শিক্ষার্থীর সেখানে পড়ার সামর্থ্য থাকা নয়। টিউশন ফি, ভর্তি ফি, যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় বাধা হতে পারে।
ফলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীদের সামনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিকল্প হলেও তা সবার জন্য সমানভাবে সহজলভ্য নয়। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্য, বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ব্যয়ের পার্থক্য বিবেচনায় না নিলে মোট আসনসংখ্যা দিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না।
এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক চাহিদা, শিক্ষার মান, শিক্ষকসংখ্যা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতায় পার্থক্য রয়েছে। তাই শুধু আসনসংখ্যা নয়, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের কোর্স চালু আছে এবং সেগুলোর মান কেমন—সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
মেডিক্যাল ও প্রকৌশলে আসন সীমিত, আলাদা যোগ্যতার বাধা
দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন রয়েছে ৫ হাজার ১০০টি। ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন ৬ হাজার ১টি। সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪৯০টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যালে ৩৭৫টি আসন রয়েছে।
কিন্তু মেডিক্যাল, ডেন্টাল ও প্রকৌশল শিক্ষায় ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পৃথক ভর্তি পরীক্ষার শর্ত রয়েছে। ফলে এসব আসনকে সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে ব্যবহারযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
এখানে মোট আসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনা করার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, আবেদনকারীর সংখ্যা, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা এবং শেষ পর্যন্ত ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় উচ্চশিক্ষায় আসন উদ্বৃত্তের সামগ্রিক হিসাব বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করতে পারে।
চার লাখের বেশি অকৃতকার্য, পুনঃপরীক্ষায় বদলাতে পারে হিসাব
এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।
শিক্ষা বোর্ডগুলো তাঁদের শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে একই মাসে ফল প্রকাশের প্রাথমিক চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগ কার্যকর হলে পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিছু শিক্ষার্থী চলতি শিক্ষাবর্ষেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন।
তবে এই শিক্ষার্থীদের সবাই পুনঃপরীক্ষায় অংশ নেবেন বা উত্তীর্ণ হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই তাঁদের সম্ভাব্য সংখ্যা সরাসরি আসন-উদ্বৃত্তের হিসাবের সঙ্গে যোগ করা যায় না। পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নতুন করে ভর্তি-যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।
এখানে পরিকল্পনার আরেকটি বিষয় রয়েছে। পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে যুক্ত করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর ভর্তি সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তা না হলে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সুযোগ তৈরি হলেও সময়সূচির কারণে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ হারাতে পারেন।
আসনসংখ্যার হিসাব আছে, সমন্বিত পরিকল্পনা কোথায়?
শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার্থীর চাহিদা, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। কোথাও শিক্ষার্থী কম, কিন্তু শিক্ষক ও অবকাঠামো রয়েছে; কোথাও আবার শিক্ষার্থীর চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও সুযোগ-সুবিধা নেই।
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ সমস্যা বোঝার জন্য প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণ। কোন অঞ্চলে কতজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় যেতে চান, কোন বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ বেশি, কোন প্রতিষ্ঠানে আসন খালি থাকে, কোথায় শিক্ষক ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে এবং কোন বিষয়ে স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কেমন—এসব তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা দরকার।
এ জন্য একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানচিত্র বা ‘এডুকেশন ম্যাপিং’ তৈরি করা যেতে পারে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো কিংবা কমানোর সিদ্ধান্ত অনুমাননির্ভর না হয়ে তথ্যভিত্তিক হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মান, শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিষয়ভিত্তিক আসন নির্ধারণেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া সহজ হবে।
শুধু আসন খালি থাকলেই কি উচ্চশিক্ষার সংকট নেই?
প্রায় ১৫ লাখ আসনের বিপরীতে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন—এই পরিসংখ্যান থেকে উচ্চশিক্ষায় সামগ্রিক আসনসংকট নেই বলে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু তা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান, মানসম্মত শিক্ষা ও আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
মূল অনুসন্ধানের জায়গা হলো, বিপুলসংখ্যক আসন থাকার পরও কেন কিছু প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রতিযোগিতা তীব্র, আর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। এর উত্তর পেতে প্রয়োজন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আসন, আবেদন, ভর্তি, ঝরে পড়া, শিক্ষকসংখ্যা, শিক্ষার মান এবং ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ ও বিশ্লেষণ।
উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় তাই শুধু আসন বাড়ানো বা খালি থাকার হিসাব যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীর চাহিদা, প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা, শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতা—এই চারটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নইলে কাগজে আসন উদ্বৃত্ত থাকলেও মানসম্মত উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সীমিতই থেকে যেতে পারে।
দেবব্র























