মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে সংঘর্ষ, নাশকতার অভিযোগে ১১ জন গ্রেপ্তার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে নাশকতার চেষ্টা চালানোর অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান। তাঁর দাবি, সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে মিশে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টা করছেন।
ডিসি রাকিব খান বলেন, কয়েক দিন ধরে পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। রোববারও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্দোলনস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। তাঁর দাবি, মিরপুরের পলাতক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এসব কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করছেন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে অভিযোগ করেন এই কর্মকর্তা।
ডিবির ভাষ্য, নাশকতার চেষ্টায় সেখানে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, মেট্রোরেলের পাঁচ স্টেশন বন্ধ
রোববার সকাল থেকেই মিরপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ ও পল্লবীমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
একপর্যায়ে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ অভিযান চালালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সংঘর্ষের মধ্যে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনসংলগ্ন সড়কে থাকা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুন নেভাতে গেলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে শেওড়াপাড়া থেকে পল্লবী পর্যন্ত মেট্রোরেলের পাঁচটি স্টেশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠন
শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শেখ আশফাকুর রহমানকে বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, নবগঠিত মজুরি বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবসম্মত নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে।
শ্রমিকদের একটি প্রধান দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে সড়ক ছেড়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে নতুন মজুরি কাঠামোতে শ্রমিকদের দাবির কতটা প্রতিফলন ঘটবে, তা নির্ধারণ করবে মজুরি বোর্ডের সুপারিশ ও পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।












