ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবু জেলেনস্কির দুশ্চিন্তা কেন?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫৭:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রুশ হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কিয়েভ। কিন্তু অস্ত্র পাওয়ার ঘোষণা এলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির।
কারণ, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর জন্য ইউক্রেনকে অপেক্ষা করতে হতে পারে আরও এক থেকে দুই বছর। অথচ রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এখনই উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন কিয়েভের।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেনের জন্য ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তির আনুমানিক মূল্য ২১০ কোটি ডলার। এই অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ে সম্মিলিতভাবে ইউক্রেনকে সহায়তা করবে। চুক্তির মূল দায়িত্বে রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
অস্ত্রের ঘোষণা, কিন্তু সরবরাহে দীর্ঘ অপেক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পেতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, ইউক্রেনের এখনই এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। কিন্তু সরবরাহে এক থেকে দুই বছর সময় লেগে গেলে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় এই চুক্তি কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
জেলেনস্কির চাওয়া, নতুন চুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র আসা পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর নিজস্ব মজুত থেকে ইউক্রেনকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হোক। এতে রুশ হামলা মোকাবিলায় আপাতত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কিয়েভ।
শীতের আগে বাড়ছে উদ্বেগ
যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতায় ইউক্রেনের অস্ত্রভান্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
শীতের আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার হামলা বাড়ার আশঙ্কা করছে কিয়েভ। অতীতেও এসব স্থাপনায় হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নাগরিক জীবনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইউক্রেনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র চেয়ে আসছিলেন জেলেনস্কি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র?
প্যাট্রিয়ট যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি উন্নত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এটি শত্রুপক্ষের বিমান, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এর পিএসি-৩ সংস্করণ বিশেষভাবে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সক্ষমতার জন্য পরিচিত।
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবসতি রক্ষায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পেলেই প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হবে না; প্রয়োজন হবে উপযুক্ত লঞ্চার, রাডার, প্রশিক্ষিত জনবল এবং নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ।
ফলে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়ার মার্কিন ঘোষণা ইউক্রেনের জন্য বড় কূটনৈতিক ও সামরিক সমর্থন হলেও তাৎক্ষণিক যুদ্ধক্ষেত্রে এর সুফল পেতে সময় লাগতে পারে।
জেলেনস্কির কাছে এখন সময়ই সবচেয়ে বড় বিষয়
ইউক্রেনের জন্য নতুন অস্ত্র কেনার অর্থায়নে ইউরোপীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিয়েভের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সরবরাহের সময়। একদিকে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত, অন্যদিকে শীতের আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষার চাপ—সব মিলিয়ে দ্রুত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
তাই দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রচুক্তির পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোর মজুত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কিয়েভের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথ তৈরি হলেও জেলেনস্কির উদ্বেগ কাটছে না মূলত একটি কারণেই—যে অস্ত্র প্রয়োজন এখন, তা পেতে যদি অপেক্ষা করতে হয় আরও কয়েক বছর, তাহলে এই মুহূর্তের রুশ হামলা ঠেকাবে কী দিয়ে?












