এইচএসসির ফল বিপর্যয়/ইংরেজিতেই ফেল প্রায় আড়াই লাখ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। শুধু ইংরেজিতেই অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী। আর আইসিটিতে ফেল করেছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। দুই বিষয়ে মিলিয়ে অনুত্তীর্ণের সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজারের বেশি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে ইতোমধ্যে বিশেষ কোর্স কারিকুলাম হাতে নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ার পেছনে ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইংরেজিতে দুর্বলতা, বিশেষ কারিকুলামের উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। সংখ্যার হিসাবে এটিই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করা বিষয়গুলোর একটি।
ইংরেজিতে ধারাবাহিক দুর্বলতা উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে শুধু পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত ক্লাস নয়, মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই ভাষা শেখানোর পদ্ধতি ও শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে নতুন বিশেষ কোর্স কারিকুলাম কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, কত শিক্ষার্থী এর আওতায় আসবে এবং ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়।
আইসিটিতেও বড় সংখ্যায় ফেল
আইসিটি বিষয়ে এবার অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সময়ে বিষয়টিতে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান, ব্যবহারিক শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান কতটা আয়ত্ত করতে পারছেন, ব্যবহারিক শিক্ষা কতটা পাচ্ছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় ল্যাব ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
২০০২ সালের উদাহরণ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী অতীতের ফলাফলের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০২ সালেও একইভাবে ফলাফলে বড় ধরনের পতন হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে প্রতি বছর পাসের হার ১০ থেকে ১২ শতাংশ করে বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবারও শ্রেণিকক্ষে ও পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। ফলাফলের এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন এবং বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
শুধু শিক্ষার্থীদের দায় দিয়ে কি ব্যাখ্যা মিলবে?
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছেন ৬ লাখ ২৩ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে ইংরেজি ও আইসিটিতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা ফলাফলের সামগ্রিক চিত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তবে এই ফলাফলকে শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়ভিত্তিক ফল, বোর্ডভিত্তিক পার্থক্য, শিক্ষকদের যোগ্যতা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি—সবকিছু বিশ্লেষণ করা জরুরি।
বিশেষ করে ইংরেজি ও আইসিটিতে এত শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা, নাকি দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত দুর্বলতার প্রতিফলন—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ কোর্স চালুর ঘোষণা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; কার্যকর পাঠদান, দক্ষ শিক্ষক এবং নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে দুর্বলতার উৎস চিহ্নিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।























