সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরে উত্তেজনা, সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ছুটি ১৭৭ কারখানায়

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের কয়েকটি শিল্পাঞ্চল। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে সাভার-আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় ১৭৭টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কোথাও শ্রমিকেরা কারখানার ভেতরে কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান নিয়েছেন, আবার কোথাও সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। এর মধ্যে গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়া এবং একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিনি জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় মোট ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সকালে কারখানায় কাজ বন্ধ, পরে সড়কে বিক্ষোভ
সকালে সাভারের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন। বিভিন্ন দাবিতে তাঁরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
পরে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের একটি কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁরা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
একের পর এক কারখানায় ছুটি
শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বেলা ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়।
শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পর্যায়ক্রমে আরও কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাবে, সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ছুটি ঘোষণা করা কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৭টিতে।
গাজীপুরেও শ্রমিকদের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ
শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব পড়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলাতেও। রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকার ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদামে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গুদামে আগুন দেওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না।
শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে একাধিক শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। একের পর এক কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনা এবং কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



















