ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক এনআইডিতে নিবন্ধন করা যাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা

অটোরিকশায় সরকারের লাগাম, গতি ২৫ কিমি; নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা ২০২৬’। নতুন নিয়মে নিবন্ধিত ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। নিবন্ধন ফি দিতে হবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলো মূলত অবৈধ। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন চাইলে আগামীকাল থেকেই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তবে নিবন্ধনের জন্য ই-রিকশার বডির নকশা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত হতে হবে। নির্ধারিত নকশা অনুসরণ না করলে কোনো ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে না।

নিবন্ধনে ১০ হাজার টাকা, চলবে সর্বোচ্চ ১২ বছর

নীতিমালা অনুযায়ী, চারজন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অন্য শ্রেণির অটোরিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি হবে আট থেকে ১০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন নবায়নের মাধ্যমে একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। এ ক্ষেত্রে চালকদের প্রতিবছর নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। যাত্রী বহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী দুই থেকে চারজনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। এসব বাহনের ভাড়া নির্ধারণ করবে ট্রাফিক বিভাগ।

একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় ব্যক্তি পর্যায়ে মালিকানার সীমাও নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার। তবে নিবন্ধন ও নবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বাস্তবায়নের সময় স্পষ্ট হবে।

ঢাকায় আট জোন, রিকশায় আট রং

ঢাকা মহানগরীতে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুরো শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের জন্য নির্ধারণ করা হবে আলাদা রং। এর মাধ্যমে কোন ই-রিকশা কোন এলাকায় চলাচল করতে পারবে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জোনের বাইরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বাহন পরিচালনা তদারকির সুযোগ তৈরি হবে। তবে জোনভিত্তিক চলাচলের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাটারি চার্জেও বিধিনিষেধ

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ করা হলে শাস্তির বিধান থাকবে। পাশাপাশি নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও পর্যায়ক্রমে পৌরসভাগুলোতেও অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

নীতিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে বর্তমান রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা না করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে নতুন বিধিমালা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া, বুয়েট অনুমোদিত নকশার প্রাপ্যতা, জোনভিত্তিক চলাচল এবং চালকদের জন্য নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ই-রিকশাচালকের জীবিকা যাতে হঠাৎ সংকটে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এক এনআইডিতে নিবন্ধন করা যাবে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা

অটোরিকশায় সরকারের লাগাম, গতি ২৫ কিমি; নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনছে সরকার। এ লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলের জন্য প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘ই-রিকশা চলাচল বিধিমালা ২০২৬’। নতুন নিয়মে নিবন্ধিত ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। নিবন্ধন ফি দিতে হবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচলসংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সড়কে চলাচলরত ই-রিকশাগুলো মূলত অবৈধ। নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশন চাইলে আগামীকাল থেকেই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। তবে নিবন্ধনের জন্য ই-রিকশার বডির নকশা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত হতে হবে। নির্ধারিত নকশা অনুসরণ না করলে কোনো ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি পাবে না।

নিবন্ধনে ১০ হাজার টাকা, চলবে সর্বোচ্চ ১২ বছর

নীতিমালা অনুযায়ী, চারজন যাত্রী পরিবহনে সক্ষম ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। অন্য শ্রেণির অটোরিকশার ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি হবে আট থেকে ১০ হাজার টাকা।

নিবন্ধন নবায়নের মাধ্যমে একটি ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চালানো যাবে। এ ক্ষেত্রে চালকদের প্রতিবছর নিবন্ধন নবায়ন করতে হবে। যাত্রী বহনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ই-রিকশার ধরন অনুযায়ী দুই থেকে চারজনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। এসব বাহনের ভাড়া নির্ধারণ করবে ট্রাফিক বিভাগ।

একটি এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় ব্যক্তি পর্যায়ে মালিকানার সীমাও নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার। তবে নিবন্ধন ও নবায়নের বিস্তারিত প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তা বাস্তবায়নের সময় স্পষ্ট হবে।

ঢাকায় আট জোন, রিকশায় আট রং

ঢাকা মহানগরীতে ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুরো শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনের জন্য নির্ধারণ করা হবে আলাদা রং। এর মাধ্যমে কোন ই-রিকশা কোন এলাকায় চলাচল করতে পারবে, তা চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জোনের বাইরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত এলাকার মধ্যে বাহন পরিচালনা তদারকির সুযোগ তৈরি হবে। তবে জোনভিত্তিক চলাচলের নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ব্যাটারি চার্জেও বিধিনিষেধ

ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। অবৈধভাবে ব্যাটারি চার্জ করা হলে শাস্তির বিধান থাকবে। পাশাপাশি নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন বিধিমালা কার্যকর হলেও পর্যায়ক্রমে পৌরসভাগুলোতেও অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান

নীতিমালা পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে বর্তমান রিকশাচালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা না করতেও সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে নতুন বিধিমালা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া, বুয়েট অনুমোদিত নকশার প্রাপ্যতা, জোনভিত্তিক চলাচল এবং চালকদের জন্য নির্ধারিত শর্ত বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক ই-রিকশাচালকের জীবিকা যাতে হঠাৎ সংকটে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।