পাবনায় জোড়া খুন: সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে সন্দেহভাজন একজন গ্রেপ্তার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাটে চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের ঘটনায় সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার মো. মুসা (২৬) মামলার ৯ নম্বর সন্দেহভাজন আসামি। হত্যাকাণ্ডের দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
রোববার (১ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পাবনার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া পূর্ব বনগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মুসা আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।
রোববার দুপুরে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পাবনা এসআরবি-১২।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবির একটি দল অভিযান চালিয়ে মুসাকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে পাবনা এসআরবির ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার ডলি রানী সরকার বলেন, মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নাম আসার পর সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডলি রানী সরকার আরও বলেন, হত্যার দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের মধ্যে মুসাও রয়েছেন বলে তাঁরা শনাক্ত করেছেন। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। পরে গ্রেপ্তার মুসাকে আতাইকুলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
হাটের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে গুলি
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পুষ্পপাড়া পশুর হাটে দিনভর চালান আদায় শেষে হিসাব-নিকাশ করছিলেন হাটের ইজারাদার ও সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম এবং ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা রিপন। পরে হাটের চালান ঘরের পেছনে অবস্থিত অস্থায়ী কার্যালয়ে দুপুরের খাবার খেতে বসেন তাঁরা।
এ সময় ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছয় যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়তে ছুড়তে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা সালাম ও রিপনকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
পরে আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে তোলার সময় আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। কিছুক্ষণ পর মারা যান রিপনও।
১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন নিহত রিপনের ভাই মো. রুবেল। মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত দুজনের মরদেহ নিজ এলাকা ধর্মগ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় মুসাকে গ্রেপ্তার করা হলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।



















