যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়নে সাফল্য আসবে: রাষ্ট্রপতি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিশাল যুবশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের জনসংখ্যার বড় অংশই যুবসমাজ। এই জনমিতিক লভ্যাংশকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য প্রস্তুতির সময় আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, যাতে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায়। এ ক্ষেত্রে যুবসমাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি।
তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়; পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজও করতে হয়। এ জন্য যুবসমাজকে কর্মমুখী করে উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
যুব উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন অবদান ও কার্যক্রমের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তরুণদের শুধু চাকরির প্রত্যাশায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, তরুণ-তরুণীরা স্বল্প পুঁজি নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন, নিজেদের পণ্য তৈরি করছেন এবং দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিতেও সাফল্য দেখাচ্ছেন।
বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তা দেশীয় খাবার ও মিষ্টি তৈরি করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর পণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগও নিয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগ উৎসাহব্যঞ্জক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে। অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ঋণ সহায়তাও কার্যকরভাবে উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে একজন মানুষ নিজের অবস্থার পরিবর্তনের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব হলো উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, সহযোগিতা ও প্রাথমিক মূলধনের ব্যবস্থা করা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করা গেলে তাঁরাই নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবেন।
যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর মতে, কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারলে তরুণদের উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করা সহজ হবে।
যুবকদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সচেতনতা, প্রচারণা এবং কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌতুক ও বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধেও যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এসব সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের সংগঠিত উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম গড়ে তুলতে হবে। সমাজের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশে বায়োগ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বায়োগ্যাস প্রকল্পের ধারণা পুরোনো হলেও এটি কার্যকর ও উপযোগী। বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে বায়োগ্যাসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করা সম্ভব। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রকল্প সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁদের অর্জন দেশের অন্য তরুণ-তরুণীদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বক্তব্য শেষে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী জব ফেয়ার এবং দেশব্যাপী স্থাপিত বায়োগ্যাস প্ল্যান্টগুলোর উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে যুব পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন তিনি।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল খায়ের ভূঁইয়া এবং মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান।
অনুষ্ঠানে যুব কার্যক্রমের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে বিভিন্ন স্টল ও যুবমেলা পরিদর্শন করেন।

















