১৪ বছর পর পড়াশোনায় ফিরে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন গৃহবধূ রীতি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বিয়ের পর সংসার ও সন্তানের দায়িত্বে থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। তবে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারাননি জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গৃহবধূ রীতি খাতুন। স্বামীর অনুপ্রেরণায় দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরেছেন তিনি। সংসারের কাজ সামলে পড়াশোনা চালিয়ে এবার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫।
৩০ বছর বয়সী রীতি খাতুন উপজেলার নসিরপুর গ্রামের আব্দুল আলিম মন্ডল বাবুর স্ত্রী। তিনি ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম) শাখা থেকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেন।
রীতির শিক্ষাজীবনের শুরুটা থেমে যায় ২০১১ সালে বিয়ের পর। এর আগের বছর, ২০১০ সালে মোলামগাড়িহাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন তিনি। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। এত কিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন রীতি।
অবশেষে ২০২৪ সালে স্বামীর উৎসাহে এসএসসি পাসের প্রায় ১৪ বছর পর আবার কলেজে ভর্তি হন। এরপর শুরু হয় নতুন করে পড়াশোনার লড়াই। সংসারের কাজ সামলে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। এর মধ্যে প্রতিবেশীদের উপহাসও শুনতে হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি।
রীতি খাতুন বলেন, স্বামীর সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা না পেলে এই বয়সে আবার পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হতো না। সংসারের কাজ সামলে পড়াশোনা করতে হয়েছে। ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
রীতির স্বামী আব্দুল আলিম মন্ডল বাবু বলেন, স্ত্রীর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে তাঁকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন। তাঁর এই ফলাফলে পরিবারের সবাই আনন্দিত।
ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সায়ফুল ইসলাম বলেন, সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রীতির এমন ফলাফল প্রশংসনীয়। তাঁর অধ্যবসায় অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সংসার, সন্তান আর সামাজিক উপহাসের বাধা পেরিয়ে রীতির এই সাফল্য প্রমাণ করেছে, শেখার আগ্রহ থাকলে বয়স কিংবা দীর্ঘ বিরতিও নতুন করে পথচলার বাধা হতে পারে না।

















