কমলগঞ্জে ‘মহাদূত সাধু মিখায়েল পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লী হিসেবে আত্মপ্রকাশে পথযাত্রা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কামদপুর এলাকায় অবস্থিত ‘মহাদূত সাধু মিখায়েল প্রায়-ধর্মপল্লী’ অবশেষে ক্যাথলিক মণ্ডলীর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক অধিকারসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লী (Parish) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আজ রবিবার, ১লা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বেলা ১১টায় আয়োজিত বিশেষ খ্রিষ্টযাগ ও শুভ অনুষ্ঠানে সিলেট ধর্মপ্রদেশের (Diocese) সম্মানীত ধর্মপাল বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গমেজ, ডিডি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন।এসময় বিশপকে সহযোগীতা করেন অদ্য ঘোষিত নবধর্মপল্লী মহাদূত সাধু মিখায়েল ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিসকো রিজ্জু, শ্রীমঙ্গল সেন্ট জোসেফ ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ড.ফাদার জেমস শ্যামল গমেজ সিএসসি,ভিকার জেনেরাল ফাদার চঞ্চল ব্রাইন গমেজ,গিয়াসনগর মাইনর সেমিনারী রেক্টর ফাদার টুয়েস বার্ডনাথ নকরেক, ফাদার জোসেফ তপ্ন ,কুলাউড়া লক্ষিপুর মিশনের যাজক ফাদার রবি হিউবার্ট রিবেরু ওএমআই ,ফাদার ভাওয়েল ভেলেন্টাইন তালাং ওএমআই, হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ সাব-সেন্টার পরিচালক ফাদার মার্কুস মুর্মু প্রমুখ।
জানাজায়, মহাদূত সাধু মিখায়েল ধর্মপল্লী শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক সেন্ট জোসেফ ধর্মপল্লীর পূর্বে অন্তর্ভুক্ত ছিল,এবং প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক যত্নের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছিল। গত ১১ই মে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে সাধু মিখায়েল ধর্মপল্লীর উদ্বোধন করা হয় এবং প্রাথমিকভাবে এটি একটি উপধর্মপল্লী (Sub-parish/Mission)হিসাবে পথযাত্রা করে।পরে প্রায় ধর্মপল্লী হিসেবে এর দৈনন্দিন ও আধ্যাত্মিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ভক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের সাধনা এবং এলাকাটির ভৌগোলিক বিস্তৃতির কথা বিবেচনা করে এটি আজ থেকে পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লীর মর্যাদা পেল।
আরও জানাজায় যে, ক্যাথলিক মণ্ডলীর কানন আইন (Canon Law) ও ধর্মপল্লীর তাৎপর্য
ক্যাথলিক খ্রিষ্টীয় নিয়ম বা কানন আইন (Canon Law 515 §1) অনুযায়ী, একটি ধর্মপল্লী (Parish) হলো একটি স্থানীয় বিশপের অধীনে থাকা নির্দিষ্ট এলাকার খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের একটি স্থায়ী সম্প্রদায়, যার সার্বিক আধ্যাত্মিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য একজন পালক বা প্যারিশ প্রিস্ট (Parish Priest/Pastor) নিযুক্ত করা হয়।
উপধর্মপল্লী থেকে পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লী হওয়ার মূল পরিবর্তন ও সুবিধাগুলো হলো স্থায়ী পালকীয় যত্ন নেওয়া। উপধর্মপল্লীতে সাধারণত প্রধান ধর্মপল্লী থেকে প্রিস্ট বা ফাদার এসে সময়ে সময়ে সেবা প্রদান করেন। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ধর্মপল্লী হওয়ার ফলে এখন থেকে এখানে একজন স্থায়ী পালক বা সহকারী ফাদার নিযুক্ত থাকবেন, যা স্থানীয় ভক্তদের আধ্যাত্মিক পরিচর্যা নিশ্চিত করবে।
স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা: ক্যাথলিক নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মপল্লী হওয়ার পর থেকে এই মিশনের নিজস্ব তহবিল, কার্যনির্বাহী পরিষদ (Parish Council) এবং স্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামো থাকবে।
খ্রিষ্টীয় সাক্রামেন্ত (Sacraments) বা সংস্কারসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার: এখন থেকে স্থানীয় গির্জাতেই খ্রিষ্টভক্তদের বাপ্তিস্ম, প্রথম খ্রিস্টপ্রসাদ,হস্তার্পন পবিত্র সংস্কারসমূহ এবং বিবাহ সংক্রান্ত সকল আনুষ্ঠানিকতা ও রেজিস্ট্রি বই স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এ আনন্দঘন মুহুর্তে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিশনের,ব্রাদার,সিস্টারসহ বিভিন্ন চা বাগান ও পুঞ্জির শত শত খ্রিষ্টভক্ত সমাজ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য ঘোষিত নবধর্মপল্লীর মহাদূত সাধু মিখায়েল ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার ফ্রান্সিসকো রিজ্জু অনুভূতি প্রকাশ করে দৈনিক বাংলা টাইমসকে বলেন,দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাধু মিখায়েল ধর্মপল্লীর পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে ও কমলগঞ্জের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মহাদূত সাধু মিখায়েলের মধ্যস্থতায় ও ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদে এই নতুন ধর্মপল্লী এবং সকল ধর্মপ্রজারা (Parishioners) ও ভালোবাসায় আরও বৃদ্ধি পাক এ প্রত্যাশা করি।
পরে নব ধর্মপল্লী অধীনে গ্রামপাড়া প্রতিনিধির হাতে স্মৃতি সরূপ ফুলের চারা ও মোমবাতি যাজকগণ বিতরণ করেন।






















