ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপপুর থেকে কবে মিলবে বিদ্যুৎ, পারমাণবিক বর্জ্য যাবে কোথায়?

বিশেষ প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন শেষ ধাপের পরীক্ষায়। আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে। তবে রূপপুর নিয়ে এখনো মানুষের মনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্যের কী হবে, বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দাম কত পড়বে এবং প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হতে আর কত সময় লাগবে?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অগ্রগতি

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোড করার কাজ গত মে মাসে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চুল্লি চালুর আগে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপের ২,০৪৬টি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
  • দ্বিতীয় ধাপের ৯০টির মধ্যে অধিকাংশ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
  • এখন বাকি রয়েছে ১৮টি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরীক্ষা

এসব পরীক্ষা শেষ হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন (Controlled Nuclear Fission) শুরু হবে। এরপর উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

কবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসবে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বিভিন্ন নিরাপত্তা যাচাই শেষ হতে ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো পর্যায়ে এগোনো সম্ভব নয়।

পারমাণবিক বর্জ্যের কী হবে?

রূপপুর প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের নিরাপত্তা।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী—

  • ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে।
  • রাশিয়ায় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে।
  • উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় অংশ প্রায় ৪০০ মিটার গভীরে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।

তবে ব্যবহারের পরপরই জ্বালানি বিদেশে পাঠানো হবে না। প্রথমে রূপপুরেই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাশিয়ায় পাঠানো হবে।

রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ করবে কে?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো পরিচালনাকালজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে রাশিয়ার টিভিএল (TVEL) কোম্পানির।

প্রথম তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্পের মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিত্তিতে ইউরেনিয়ামের মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট সূত্র রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেও বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ার জন্য মূল্যসীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় কেন বেড়েছে?

মূল প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি না পেলেও কয়েকটি বৈশ্বিক কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • করোনা মহামারি
  • রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ
  • ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি
  • আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

এসব কারণে প্রকল্পের কাজ প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে যায়।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা

রূপপুরের বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দাম কত হবে?

এটি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং রূপপুর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি (PPA) সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—

  • পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় বেশি হলেও
  • জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম

ফলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম দেশের অন্যান্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।

জাতীয় গ্রিড কি প্রস্তুত?

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

তবে একটি প্রযুক্তিগত বিষয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ—স্পিনিং রিজার্ভ।

এর অর্থ, রূপপুরের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পুরো জাতীয় গ্রিডে ব্ল্যাকআউট না হয়, সে জন্য বিকল্প গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

বর্তমানে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও শুরুতে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

কেন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

নিউক্লিয়ার প্রকৌশলীদের মতে, রূপপুর এখন সবচেয়ে সংবেদনশীল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে প্রতিটি নিরাপত্তা পরীক্ষা শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে।
  • প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হয়েছে।
  • ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে
  • প্রথমে প্রায় ১০ বছর রূপপুরেই নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।
  • প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা হয়েছে।
  • প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য এখনো নির্ধারণ হয়নি।
  • জাতীয় গ্রিড প্রস্তুত থাকলেও স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রূপপুর থেকে কবে মিলবে বিদ্যুৎ, পারমাণবিক বর্জ্য যাবে কোথায়?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন শেষ ধাপের পরীক্ষায়। আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হবে। তবে রূপপুর নিয়ে এখনো মানুষের মনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্যের কী হবে, বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দাম কত পড়বে এবং প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হতে আর কত সময় লাগবে?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অগ্রগতি

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোড করার কাজ গত মে মাসে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চুল্লি চালুর আগে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী—

  • প্রথম ধাপের ২,০৪৬টি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে।
  • দ্বিতীয় ধাপের ৯০টির মধ্যে অধিকাংশ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
  • এখন বাকি রয়েছে ১৮টি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরীক্ষা

এসব পরীক্ষা শেষ হলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন (Controlled Nuclear Fission) শুরু হবে। এরপর উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

কবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসবে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরীক্ষামূলক উৎপাদন ও বিভিন্ন নিরাপত্তা যাচাই শেষ হতে ৭ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রেখে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কোনো পর্যায়ে এগোনো সম্ভব নয়।

পারমাণবিক বর্জ্যের কী হবে?

রূপপুর প্রকল্প নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের নিরাপত্তা।

২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী—

  • ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে।
  • রাশিয়ায় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে।
  • উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় অংশ প্রায় ৪০০ মিটার গভীরে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।

তবে ব্যবহারের পরপরই জ্বালানি বিদেশে পাঠানো হবে না। প্রথমে রূপপুরেই বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রাশিয়ায় পাঠানো হবে।

রূপপুরের জ্বালানি সরবরাহ করবে কে?

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো পরিচালনাকালজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে রাশিয়ার টিভিএল (TVEL) কোম্পানির।

প্রথম তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ প্রকল্পের মূল চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ভিত্তিতে ইউরেনিয়ামের মূল্য নির্ধারণের একটি নির্দিষ্ট সূত্র রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে গেলেও বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ার জন্য মূল্যসীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের ব্যয় কেন বেড়েছে?

মূল প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি না পেলেও কয়েকটি বৈশ্বিক কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • করোনা মহামারি
  • রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ
  • ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি
  • আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা

এসব কারণে প্রকল্পের কাজ প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে যায়।

ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা

রূপপুরের বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট দাম কত হবে?

এটি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং রূপপুর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি (PPA) সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—

  • পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় বেশি হলেও
  • জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম

ফলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম দেশের অন্যান্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক থাকবে।

জাতীয় গ্রিড কি প্রস্তুত?

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

তবে একটি প্রযুক্তিগত বিষয় এখনো গুরুত্বপূর্ণ—স্পিনিং রিজার্ভ।

এর অর্থ, রূপপুরের মতো বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পুরো জাতীয় গ্রিডে ব্ল্যাকআউট না হয়, সে জন্য বিকল্প গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

বর্তমানে গ্যাসের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি কিছুটা চ্যালেঞ্জ হলেও শুরুতে সীমিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

কেন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

নিউক্লিয়ার প্রকৌশলীদের মতে, রূপপুর এখন সবচেয়ে সংবেদনশীল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে প্রতিটি নিরাপত্তা পরীক্ষা শতভাগ সফলভাবে সম্পন্ন করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আসতে পারে।
  • প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম লোডিং সম্পন্ন হয়েছে।
  • ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত নেওয়া হবে
  • প্রথমে প্রায় ১০ বছর রূপপুরেই নিরাপদে সংরক্ষণ করা হবে।
  • প্রকল্প ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা হয়েছে।
  • প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য এখনো নির্ধারণ হয়নি।
  • জাতীয় গ্রিড প্রস্তুত থাকলেও স্পিনিং রিজার্ভ নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সফলভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।