ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চায়ের দোকানে এইচএসসির ৪০০ উত্তরপত্র,পরীক্ষক আটক জুলাইয়ে দেশে এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এতিমখানার অর্থ আত্মসাৎ, মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে পোস্টারিং টাঙ্গাইলে অনিয়মের দায়ে ৪ ক্লিনিক-হাসপাতালকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা টাঙ্গাইলে ভেজাল ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি, তিন ফার্মেসিকে জরিমানা তথ্য বিভ্রাট ও অপতথ্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেয় যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ছয় মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, বাদ পড়ছেন তিন মন্ত্রী!

বিভাগীয় ব্যবস্থার ঘোষণা

চায়ের দোকানে এইচএসসির ৪০০ উত্তরপত্র,পরীক্ষক আটক

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটে বন্ধুদের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক পরীক্ষককে আটক করেছে শিক্ষা বোর্ড। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিযুক্ত এইচএসসি পরীক্ষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

শিক্ষা বোর্ড, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন সোহান বন্ধুদের সঙ্গে চা পান করার সময় উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন খাতা মূল্যায়নে সহায়তা করছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। উত্তরপত্রগুলো একটি বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন এবং তাকে থানায় নিয়ে যান।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরে তাকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, চায়ের দোকানে কোনো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়নি। খাতাগুলো আগে থেকেই মূল্যায়ন করা ছিল। কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানোর আগে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে বসেছিলেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, শুক্রবার রাতেও একই স্থানে ইকবাল হোসেন সোহানসহ কয়েকজনকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

ইকবালের সঙ্গে থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা বলেন, ইকবাল হোসেন সোহান তার নিজের বরাদ্দ পাওয়া খাতাই দেখছিলেন। তিনি আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট। আমি এবং আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী সেখানে ছিলাম, তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষককে উত্তরপত্রসহ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিভাগীয় ব্যবস্থার ঘোষণা

চায়ের দোকানে এইচএসসির ৪০০ উত্তরপত্র,পরীক্ষক আটক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:৫৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটে বন্ধুদের সঙ্গে একটি চায়ের দোকানে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে এক পরীক্ষককে আটক করেছে শিক্ষা বোর্ড। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়।

শনিবার (১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

আটক ইকবাল হোসেন সোহান সিলেট মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নিযুক্ত এইচএসসি পরীক্ষক। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী।

শিক্ষা বোর্ড, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইকবাল হোসেন সোহান বন্ধুদের সঙ্গে চা পান করার সময় উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন খাতা মূল্যায়নে সহায়তা করছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। উত্তরপত্রগুলো একটি বস্তায় রাখা ছিল। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন এবং তাকে থানায় নিয়ে যান।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পরে তাকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল হোসেন সোহান বলেন, চায়ের দোকানে কোনো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়নি। খাতাগুলো আগে থেকেই মূল্যায়ন করা ছিল। কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানোর আগে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি সেখানে বসেছিলেন।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, শুক্রবার রাতেও একই স্থানে ইকবাল হোসেন সোহানসহ কয়েকজনকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

ইকবালের সঙ্গে থাকা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা বলেন, ইকবাল হোসেন সোহান তার নিজের বরাদ্দ পাওয়া খাতাই দেখছিলেন। তিনি আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট। আমি এবং আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী সেখানে ছিলাম, তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষককে উত্তরপত্রসহ পাওয়া গেছে। সেখান থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।